ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি আলিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও নির্যাতনের পাহাড়সম অভিযোগ
ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল আলিমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ জমা পড়েছে ডিএমপি কমিশনার, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর কাছেও।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, থানায় গিয়ে অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়। কেউ কেউ তো আটকে রেখে নির্যাতনের কথাও বলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সহযোগিতা করতেই ওসি আলিম প্রভাব খাটান।
১৩ মে বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দক্ষিণ মানিকদির নির্মাণাধীন অর্কিড টাওয়ারে একদল যুবক চাঁদা না পেয়ে হামলা চালায়। একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় পুলিশের সামনেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, অথচ পুলিশ সদস্যরা তখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন।
স্থানীয়দের দাবি, ওসি আলিমের আশীর্বাদেই দীর্ঘদিন ধরে রাশেদ ও মাসুদের মতো ব্যক্তিরা ওই এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। হামলার পর মামলা করতে গেলে ভুক্তভোগীদেরই আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া, আলিমের স্বেচ্ছাচারিতার বিষয়ে ডিএমপির আইজিপি কার্যালয়ের কমপ্লেইন মনিটরিং সেলে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। এমনকি একটি গোয়েন্দা রিপোর্টেও আলিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
এই ব্যাপারে একাধিকবার চেষ্টা করেও ওসি আলিমের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোনে বার্তা পাঠালেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
তবে ডিএমপির মিডিয়া ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, “অভিযোগ পেলে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করি। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
অবশ্য এত অভিযোগের পরও পুলিশের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কেন নীরব—সেই প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মাঝে। গুলশান বিভাগের ডিসি পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ, যা পরিস্থিতিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।