লক্ষ্মীপুরে কোরবানির হাটে গরুর দাম কম, খুশি ক্রেতা–হতাশ বিক্রেতা
পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠেছে লক্ষ্মীপুরের কোরবানির হাটগুলো। জেলার পাঁচটি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটে ব্যাপক ক্রেতা সমাগম দেখা যাচ্ছে। দেশি গরুর সরবরাহ ভালো হলেও গরুর দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা কম। এতে খুশি ক্রেতারা, তবে হতাশ খামারি ও বিক্রেতারা।
জেলার প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুরে ছোট-বড় প্রায় ৩ হাজার খামারে এবার কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ১ লাখ ৩৯ হাজার পশু। জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ হাজার পশু বেশি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কুমুদ রঞ্জন মিত্র। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি হাটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিনিধিরা মাঠে কাজ করছেন।
দালালবাজারসহ জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, গরুর প্রকারভেদে দাম ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কম। গত বছর যে গরু ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবার সেটি মিলছে প্রায় লাখ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, লালন-পালনের খরচ তোলা তো দূরের কথা, লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
৪০ বছর ধরে গরুর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মোহাম্মদ হাশেম বলেন, “ক্রেতারা গরুর এমন দাম বলছেন, যা উৎপাদন খরচেরও কম। হতাশ লাগছে, এবার লাভের মুখ দেখব কিনা নিশ্চিত না।”
অন্যদিকে, গরু কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, বাজারে প্রচুর গরু থাকায় দাম তুলনামূলক কম। দালালবাজার হাটে আসা আব্দুল হাই লিংকন বলেন, “কয়েকটি গরু দেখেছি, দাম মোটামুটি ভালো। আশা করছি, সাধ্যের মধ্যে গরু কিনতে পারব।”
জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সন্তুষ্ট সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা মিরন বলেন, “হাটে পুলিশ ও সেনাবাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। এখনো পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।”
জেলা পুলিশ সুপার আকতার হোসেন জানান, পাঁচটি উপজেলার সব পশুর হাটে সাদা পোশাক ও ইউনিফর্মে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা প্রশাসক রাজীব কুমার সরকার বলেন, “মানুষ যেন নিরাপদে কোরবানির পশু কিনতে পারে ও ঈদ উদযাপন করতে পারে, সেজন্য জাল টাকা প্রতিরোধ, বাজার মনিটরিংসহ সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি হাটে মোতায়েন রয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।”