বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন, জারি হলো নতুন অধ্যাদেশ
বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞায় পরিবর্তন এনেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন’ সংশোধন করে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (৪ জুন) রাতে এটি জারি করা হয়।
সংশোধিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বাংলাদেশ (মুজিবনগর) সরকারের সঙ্গে যুক্ত জাতীয় পরিষদের (এমএনএ) ও প্রাদেশিক পরিষদের (এমপিএ) সদস্যরা আর ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন না। এখন থেকে তারা গণ্য হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে।
অধ্যাদেশে মোট পাঁচটি শ্রেণিতে ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’দের তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
১. পেশাজীবী ও সাধারণ নাগরিক যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিদেশে অবস্থানকালে জনমত গঠনে ভূমিকা রেখেছেন।
২. মুজিবনগর সরকারের অধীনে কর্মকর্তা-কর্মচারী, নিযুক্ত চিকিৎসক, নার্স ও সহকারীরা।
৩. প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্ত সব এমএনএ ও এমপিএ, যারা পরে গণপরিষদের সদস্য হন।
৪. স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী ও সাংবাদিক, দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মী।
৫. স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের সদস্যরা।
নতুন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, যেসব বেসামরিক নাগরিক ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ পর্যন্ত দেশের ভেতরে যুদ্ধের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন, অথবা ভারতের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে গিয়ে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দেশীয় সহযোগীদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে লড়েছেন—তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন।
এছাড়াও সেনাবাহিনী, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), পুলিশ, মুক্তিবাহিনী, মুজিবনগর সরকার স্বীকৃত বাহিনী, নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স ও আনসার সদস্যরা এই তালিকায় থাকবেন।
অধ্যাদেশে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার নারীরা (বীরাঙ্গনা) এবং ফিল্ড হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের সেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও সহকারীরাও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হবেন।
এদিকে, সংশোধনীতে 'জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান' শব্দটি পরিবর্তন করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের খসড়া শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে সংশোধন এনে নতুন এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো।