মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ব্যয় বাড়ছে

শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে ব্যয় বাড়ছে

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণে ব্যয় আরও ২ হাজার কোটি টাকা বাড়তে পারে। নির্মাণ সামগ্রীর মান ও স্থাপনার নান্দনিকতা উন্নয়নের কথা বলে এই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) চেয়ারম্যান, যিনি জানিয়েছেন যে ব্যয় পর্যালোচনা করে সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা চলছে।


প্রকল্পটি ২০২৪ সালে যাত্রীসেবা শুরু করার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বরং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন ব্যয়ের খাত খুলছে। বিশেষ করে ভিভিআইপি জোনসহ কিছু অংশের নকশা ও সাজসজ্জায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যার ফলে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।


সিভিল এভিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো প্রকল্পে প্রায় ৫০০টিরও বেশি 'ভেরিয়েশন' বা পরিবর্তন এসেছে, যার বেশিরভাগই অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রীর কারণে হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।


বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া বলেন, “টার্মিনালের কাজ এবং যেসব অনিয়ম হয়েছে, তা আমরা ঠিকাদারদের সঙ্গে বসে সমাধানের চেষ্টা করছি। পাশাপাশি দুদক তাদের তদন্ত করছে। আমাদের লক্ষ্য দ্রুত টার্মিনালটি চালু করা।”


তবে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এভিয়েশন বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম। তিনি বলেন, “প্রকল্পের শুরুর সময় যারা বাজেট মূল্যায়ন করেছিল, তারা কেন আগেভাগেই সমস্যা চিহ্নিত করতে পারেনি, তা খুঁজে বের করা জরুরি। ব্যয় বাড়লেও তা যুক্তিসঙ্গত হওয়া উচিত, হঠাৎ করে ২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো গ্রহণযোগ্য নয়।”


প্রকল্পের শুরুতে ২০১৭ সালে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার কোটি টাকা। পরে ২০২২ সালে তা বাড়িয়ে ২১ হাজার ৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। এবার নতুন করে ২ হাজার কোটি টাকা বাড়লে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ২৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকায়।


বেবিচক জানায়, আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকেই যেকোনো জটিলতা সমাধান করা হবে এবং দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়া হবে।