মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › জাতীয় › যাত্রাবাড়ী ট্র্যাজেডি: ভিডিও ও সাক্ষ্যে উঠে এল ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র
বিবিসির অনুসন্ধানে ৫ আগস্ট

যাত্রাবাড়ী ট্র্যাজেডি: ভিডিও ও সাক্ষ্যে উঠে এল ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
যাত্রাবাড়ী ট্র্যাজেডি: ভিডিও ও সাক্ষ্যে উঠে এল ভয়াবহ গণহত্যার চিত্র

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে কমপক্ষে ৫২ জন নিহত হন বলে উঠে এসেছে বিবিসি আই-এর একটি অনুসন্ধানে। ঘটনাটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ পুলিশি সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদক ক্রিস্টোফার জাইলস, ঋদ্ধি ঝা, রাফিদ হোসেইন ও তারেকুজ্জামান শিমুলের যৌথ অনুসন্ধানে ভয়াবহ এই ঘটনার বিস্তৃত তথ্য উঠে এসেছে।


ঘটনার দিন ছিল ৫ আগস্ট—যেদিন দীর্ঘ ৩৬ দিনের শিক্ষার্থীনেতৃত্বাধীন আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন ও ভারতে পালিয়ে যান। সেই দিন বিকেলে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।


বিবিসির অনুসন্ধানী দল ভিডিও, ছবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও现场 পরিদর্শনের মাধ্যমে ঘটনার পূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।


একটি মোবাইল ভিডিওতে দেখা যায়, বিকেল ২টা ৪৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে বিক্ষোভ চলাকালে হঠাৎ সেনাবাহিনীর সদস্যরা পেছনে সরে যান, এরপর থানার ভেতর থেকে শুরু হয় পুলিশের গুলিবর্ষণ। মিরাজ হোসেন নামের এক আন্দোলনকারী গুলিবর্ষণের সেই ভিডিও ধারণ করেছিলেন—যেটি তার মৃত্যুর প্রমাণও হয়ে ওঠে।


সিসিটিভি ফুটেজ, ড্রোন ভিডিও এবং অন্যান্য ভিডিওতে দেখা গেছে, কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে চলেছে গুলিবর্ষণ। আহতদের অনেককে রিকশা, বাইক ও ভ্যানে করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন সাধারণ মানুষ।


বিবিসির তথ্য যাচাইয়ে দেখা যায়, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও আসলে ৫ আগস্টের নয়, বরং আগের দিন অর্থাৎ ৪ আগস্টের ঘটনা।


সেদিন রাতে বিক্ষোভকারীদের একাংশ শাহবাগে চলে যান, আর যাত্রাবাড়ীতে যারা ছিলেন, তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যান এবং পরবর্তীতে থানায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই ঘটনায় ছয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।


অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ আগস্টে যাত্রাবাড়ীতে অন্তত ৫২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।


ঘটনার পর পুলিশ বাহিনী স্বীকার করে যে, আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল এবং অপেশাদার আচরণও হয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, তারা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে এবং যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসানসহ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।


বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ওই সময় সেনাসদস্যদের ভূমিকা নিয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


বাংলাদেশ পুলিশের এক ই-মেইল বার্তায় বলা হয়েছে, “ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।