দেবীদ্বারে ঘুমন্ত নারীকে কুপিয়ে হত্যা, নিখোঁজ ছেলে ও পরকীয়ার অভিযোগে তদন্ত
কুমিল্লার দেবীদ্বারে ঘুমন্ত অবস্থায় ঝরনা বেগম (৪৮) নামে এক নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও খুঁচিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) রাতে দেবীদ্বার পৌরসভার সাইলচর গ্রামের আরিসের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। নিহত ঝরনা বেগম ইলেকট্রিক মিস্ত্রি আব্দুল করিমের স্ত্রী।
এ ঘটনায় ঝরনা বেগমের বড় ছেলে সবুজ (৩২) ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহত ঝরনা বেগমের সঙ্গে পারিবারিকভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এছাড়া, তার পার্শ্ববর্তী বড়আলমপুর গ্রামের ইয়াবা কারবারি দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্ক ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্রায়ই তারা চা দোকানে আড্ডা দিতেন এবং রাত ১১-১২টার পর বাড়ি ফিরতেন।
নিহতের স্বামী আব্দুল করিম জানান, তার স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক দূরত্ব ছিল। তারা আলাদা বিছানায় ঘুমাতেন। ঝরনা বেগম প্রায়ই তাকে জোর করে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতেন। ঘটনার দিনও তিনি ৮টি ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সকালে ঘুম ভেঙে দেখেন, তার স্ত্রী রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত পড়ে আছেন।
নিহতের বড় মেয়ে নিপা বলেন, ‘আমি আগে থেকেই সন্দেহ করছিলাম, আমার মাকে কেউ মেরে ফেলবে। তবে কাকে সন্দেহ করব, বুঝতে পারছি না।’
পুলিশ জানিয়েছে, ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ ছিল। নিহতের পাশেই দুটি মোবাইল ফোন, কানের স্বর্ণের দুল ও গলায় রুপার চেইন অক্ষত ছিল। তাই এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, ‘নিহতের মাথায় তিনটি ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। এগুলো ইলেকট্রিক প্লাস বা স্ক্রুড্রাইভার দিয়ে করা হতে পারে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’
দেবীদ্বার থানার ওসি শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানান, ‘এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।