থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলো লাখো মানুষ
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সীমান্ত সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪ জন, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ ঘটনায় নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরে গেছে এক লাখেরও বেশি বেসামরিক মানুষ। পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে।
বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া এই সংঘর্ষে উভয় দেশই যুদ্ধবিমান, কামান, ট্যাংক এবং স্থলসেনা ব্যবহার করেছে। ব্যাংকক ও নম পেন একে অপরকে প্রথম হামলার জন্য দায়ী করেছে। থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ১৪ জনের মধ্যে ১৩ জন বেসামরিক ও একজন সেনা সদস্য।
থাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশ থেকে এক লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে প্রায় ৩০০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
সীমান্তসংলগ্ন কাম্বোডিয়ান শহর সামরোংয়ে অবস্থানরত এএফপির সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালেও কামানের গোলার শব্দ শোনা গেছে। গোলাগুলির ভয়ে অনেক পরিবার শিশুদের নিয়ে দ্রুত স্থানত্যাগ করেছে। সীমান্তে সেনাদের রকেট লাঞ্চার নিয়ে দৌড়ে যেতে দেখা গেছে।
দুই দেশের মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০০৮ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়, যাতে ২৮ জন নিহত ও ১০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। যদিও ২০১৩ সালে জাতিসংঘের আদালতের রায়ের পর দীর্ঘদিন শান্তি বিরাজ করছিল। তবে চলতি বছরের মে মাসে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা আবার বাড়তে থাকে।
থাই সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার অন্তত ছয়টি এলাকায় সংঘর্ষ হয়। এর মধ্যে দুটি ছিল প্রাচীন মন্দিরের কাছাকাছি। কাম্বোডিয়া রকেট ও গোলা ছোড়ে, জবাবে থাইল্যান্ড এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালায়।
এ সংঘর্ষের কয়েক ঘণ্টা আগে থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করে এবং নিজের রাষ্ট্রদূতকেও ফিরিয়ে আনে। জবাবে কম্বোডিয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক ‘সর্বনিম্ন পর্যায়ে’ নামিয়ে আনে এবং থাই কূটনীতিকদের বহিষ্কার করে।
এই সংকট নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের অনুরোধে। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স দ্রুত সংঘর্ষ থামানোর আহ্বান জানিয়েছে। চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চেয়েছে।
সূত্র: এএফপি