মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › সারা দেশ › বগুড়ার শহীদ আবু রায়হানের পরিবার আজও কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন

বগুড়ার শহীদ আবু রায়হানের পরিবার আজও কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বগুড়ার শহীদ আবু রায়হানের পরিবার আজও কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন

বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার যুবদল সদস্য আবু রায়হান রাহিম (২৯) ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে তিনি শহীদ হন। এই ঘটনায় পরিবারে বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। রাহিমের মা রওশন আরা বেগম ও স্ত্রী দিলরুবা খাতুন অত্যন্ত দুঃস্থ হয়ে পড়েছেন। চার বছরের ছেলে আবু সোয়াইবের নামে সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন থেকে কিছু আর্থিক সাহায্য পেয়েও সংসারের দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্ত্রীকে দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় অস্থায়ী চাকরি দেওয়া হলেও ৮ হাজার টাকার বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন।


গত ৪ আগস্ট ২০২৪, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মিছিলে পুলিশি গুলিতে রাহিমের দুই পায়ে গুলি লাগে। তাকে প্রথমে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে নেয়া হয়। ৭ আগস্ট অস্ত্রোপচার করে ডান পা কেটে ফেলতে হয়। বাম পা থেকে গুলি বের করলেও ৯ আগস্ট সকালে শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থলে আরেক আন্দোলনকারী মুনিরুল ইসলাম মুনির (২২) মারা যান।


রাহিমের মা ১৭ আগস্ট রাতে দুপচাঁচিয়া থানায় সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বেলাল হোসেন প্রামাণিককে প্রধান আসামি করে ৮২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরে বাদী ভিডিও সাক্ষাৎকারে বলেন, রাতে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং তার ছেলের হত্যার সাথে আসামিদের কোনো সম্পর্ক নেই।


দুপচাঁচিয়া থানার ওসি ফরিদুর রহমান জানান, মামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন গ্রেফতার হয়েছেন।


রাহিমের মা জানান, অনেক সংস্থা ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা সাহায্যের জন্য এসেছেন, কিন্তু একমাত্র বগুড়া জেলা প্রশাসক থেকে দুই লাখ টাকা আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছেন। দুই ছেলে ও বউ নিয়ে দিন কাটানো কঠিন।


দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম নিহত রাহিমের স্ত্রীকে অস্থায়ী চাকরি দিয়েছেন, তবে মাত্র ৮ হাজার টাকা বেতন সংসার চালাতে যথেষ্ট নয়। ছোট ভাই বায়েজিদ মুন্সী ঢাকায় থেকে ফিরে স্থানীয় পেপার মিলের কাজে নিয়োজিত হয়েছেন।


বায়েজিদ জানান, জেলা প্রশাসক, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ও আস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন থেকে ভাইয়ের ছেলের নামে আর্থিক ও সঞ্চয়পত্র দেওয়া হয়েছে, যা সংসারের জন্য কাজে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শহীদ পরিবারের সদস্যরা মামলা বাণিজ্য করছে। স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা টাকা প্রস্তাব করলেও মা তা প্রত্যাখ্যান করেছেন।