জুলাইয়ে রেমিট্যান্স ২৯% বেড়ে ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার, তবে ৬ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বললেন, "রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধির বড় কারণ হলো মানি লন্ডারিং কমে যাওয়া। ডলার পাচারের চাহিদা কম থাকায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসছে বেশি।" তবে তিনি জানালেন, ঈদের পরের মাসগুলোতে সাধারণত রেমিট্যান্স একটু কমে যায়, আর জুলাইয়ে ডলারের দামের ওঠানামাও এই প্রবাহে প্রভাব ফেলেছে।
জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ডলারের দাম প্রায় ৩ টাকা কমে যাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারে অকশনের মাধ্যমে ডলার কিনে বাজারে হস্তক্ষেপ করেছে। ১৩ ও ১৫ জুলাই দু’বার অকশনে মোট ৫৪৬ মিলিয়ন ডলার কেনার ফলে ডলারের দাম আবার বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করছে ১২২ থেকে ১২৩ টাকা দরে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩০.৩৩ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবার এক অর্থবছরে ৩০ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে।
সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক—৫৩৪ মিলিয়ন ডলার। অগ্রণী ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক যথাক্রমে দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলো পেয়েছে ৭৭৭ মিলিয়ন ডলার, আর বেসরকারি ব্যাংকগুলো পেয়েছে ১.৬৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স।
একজন বিদেশি মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের কান্ট্রি হেড মন্তব্য করেছেন, "ডলারের দাম স্থিতিশীল না হলে প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে দ্বিধা বোধ করেন। দাম বেশি ওঠা-নামা হলে অনেকেই রেমিট্যান্স পাঠানো পিছিয়ে দেন। অন্যদিকে দাম বেশি কমলে হুন্ডি চ্যানেল সক্রিয় হয়ে ওঠে।"