সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › নিটওয়্যার ও এফওসি অর্ডারে উত্সাহ, পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বিজিএমইএ

নিটওয়্যার ও এফওসি অর্ডারে উত্সাহ, পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বিজিএমইএ

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নিটওয়্যার ও এফওসি অর্ডারে উত্সাহ, পোশাক খাতে নতুন সম্ভাবনা দেখছে বিজিএমইএ

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মধ্যকার চলমান ট্যারিফ (শুল্ক) বিরোধে আন্তর্জাতিক পোশাক ক্রেতারা আবারও বাংলাদেশমুখী হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন দেশের তৈরি পোশাক শিল্প উদ্যোক্তারা। বিজিএমইএর তথ্য বলছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বছরে অন্তত ১০ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত রফতানি আয় সম্ভব।


বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে ১,৩০০টির বেশি কারখানা মার্কিন বায়ারের সঙ্গে কাজ করছে। এর মধ্যে প্রায় ৩০০ কারখানা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রফতানির ওপর নির্ভরশীল। বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান জানান, সাম্প্রতিক ট্যারিফ জটিলতার কারণে কিছুটা ধীর গতি এলেও বর্তমানে সেই সমস্যাগুলো কেটে গেছে, এবং কারখানাগুলো এখন ভালো অবস্থানে রয়েছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে রফতানিতে শুল্কহার যথাক্রমে ১০০ শতাংশ ও ৫০ শতাংশ হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা মাত্র ২০ শতাংশ, যা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে।


ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরামের চেয়ারম্যান এস এম আবু তৈয়ব বলেন, এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বন্দর সেবা উন্নত করা, এনবিআরের জটিলতা দূর করা এবং নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।


২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে ৭.৫৪ বিলিয়ন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩.৭৯ শতাংশ বেশি। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ট্যারিফ সুবিধা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে এক মৌসুমেই ৩ বিলিয়ন এবং বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত আয় সম্ভব।


বর্তমানে বাংলাদেশ প্রতিবছর ২০–২১ বিলিয়ন ডলারের নিটওয়্যার এবং ১৭–১৮ বিলিয়ন ডলারের ওভেন পণ্য রফতানি করছে। আগে কিছু বায়ার ভারতের দিকে ঝুঁকলেও এখন তারা বাংলাদেশেই অর্ডার ফিরিয়ে আনছেন।


বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের ধরে রাখতে হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, এফওসি (ফ্রি অব কস্ট) ও শুল্কায়ন জটিলতা দূর করতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (NBR) দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বিজিএমইএর আরেক পরিচালক এমডি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী।


উল্লেখ্য, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ৩৯.৩৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রফতানি করেছে, যা আগের বছরের ৩৬.১৫ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৮.৮৪ শতাংশ বেশি।