ঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থবির বাংলাদেশ, প্রতিবেশীদের সাফল্যের ধারা অব্যাহত
বঙ্গোপসাগরে দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ব্যর্থ হচ্ছে বাংলাদেশ। সমুদ্রসীমা বিজয়ের এক যুগেরও বেশি সময় পার হলেও এখনো কোনো গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করতে পারেনি দেশটি। অন্যদিকে ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার ইতোমধ্যে সমুদ্র তলদেশে বড় সাফল্য অর্জন করেছে।
পাকিস্তানের সাম্প্রতিক আবিষ্কার
চীনের সহায়তায় আরব সাগরে যৌথ সমীক্ষা চালিয়ে সম্প্রতি বিপুল গ্যাস মজুদ খুঁজে পেয়েছে পাকিস্তান।
কত পরিমাণ গ্যাস মজুদ আছে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি উত্তোলন করা গেলে পাকিস্তানের অর্থনীতি আমূল বদলে যাবে এবং জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা অনেক কমে আসবে।
ইতোমধ্যে দেশটির রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ সংস্থা স্পেশাল ফ্যাসিলিটেশন কাউন্সিল (এসএফসি) প্রকল্পে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে।
ভারতের সাফল্য
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে গভীর সমুদ্রে বড় তেল-গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে ভারত।
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল থেকে ৩৫ কিলোমিটার দূরে খনন করে গ্যাস ও তেলের মজুদ পায় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ওএনজিসি।
খনি চালু হলে দৈনিক প্রায় ৪৫ হাজার ব্যারেল তেল ও ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন সম্ভব হবে।
এতে ভারতের দৈনিক তেল উৎপাদনে প্রায় ১১% এবং গ্যাস উৎপাদনে ১৫% অবদান রাখবে।
বছরে এ খাত থেকে সাশ্রয় হবে প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি।
মিয়ানমারের অগ্রগতি
২০১২ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পরের বছরই মিয়ানমার বঙ্গোপসাগরে বিপুল গ্যাস মজুদ আবিষ্কার করে।
আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্রের বেশিরভাগই বাংলাদেশের সীমানার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
বাংলাদেশের অবস্থান
সমুদ্রসীমা বিজয়ের পরও এখনো কার্যকর কোনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধান করতে পারেনি বাংলাদেশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিবেশীদের সাফল্যের পর বাংলাদেশকেও দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে, নইলে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও ঝুঁকিতে পড়বে।