সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি জাপানের সঙ্গে, আরও চার দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান

বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি জাপানের সঙ্গে, আরও চার দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান

favicon
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের প্রথম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি জাপানের সঙ্গে, আরও চার দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান

পৃথিবীর বড় রপ্তানিকারক দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) করে নিজেদের রপ্তানি বাজারে আধিপত্য বাড়িয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রতিবেশী ছোট অর্থনীতির দেশ ভুটানের সঙ্গে একটি পিটিএ ছাড়া গত তিন দশকে আর কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি করতে পারেনি বাংলাদেশ।


এ অবস্থায় ২০২৬ সালের নভেম্বরে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পর বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এলডিসি সুবিধা হারালে রপ্তানিতে শুল্ক ছাড় কমে যাবে। তাই চুক্তির মাধ্যমে নতুন বাজার নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার।


জাপানের সঙ্গে প্রথম ইপিএ

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ডিসেম্বরেই জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে। এটিই হবে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে পাঁচ দফা আলোচনা শেষ হয়েছে। এফটিএর তুলনায় ইপিএকে আরও বিস্তৃত, উন্নয়নবান্ধব ও উদার চুক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


দুই দেশের যৌথ স্টাডি গ্রুপের রিপোর্ট অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় বাণিজ্য, শুল্ক ব্যবস্থা, বিনিয়োগ, ই-কমার্স, মেধাস্বত্ব, শ্রম, পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ১৭টি খাত অন্তর্ভুক্ত থাকবে।


আরও চার দেশের সঙ্গে পরিকল্পনা

সরকার আগামী বছরের নভেম্বরের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে এফটিএ বা ইপিএ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। পাশাপাশি রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপে (আরসিইপি) যোগ দেওয়ার দিকেও নজর দিচ্ছে।


বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, রপ্তানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কোরিয়া, মালয়েশিয়া, জাপানসহ একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।


প্রতিদ্বন্দ্বীদের অগ্রগতি

বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনাম ইতোমধ্যে ৪০টিরও বেশি দেশের সঙ্গে এফটিএ করেছে। কম্বোডিয়া, ভারত, চীন, ফিলিপাইনও একই পথে এগোচ্ছে। তুরস্কের পিটিএ রয়েছে ১৮ দেশের সঙ্গে। ফলে এ দেশগুলো বিনা শুল্কে সহজেই বিভিন্ন বাজারে প্রবেশ করছে।


প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেন, “আমাদের চ্যালেঞ্জ নিতে হবে এবং মানসিকতা তৈরি করতে হবে। অন্যথায় আমরা রপ্তানি বাণিজ্যে আরও পিছিয়ে পড়ব।”


সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন