সেনাবাহিনীকে যে ভাষায় আক্রমণ হয়েছে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়: রুমিন ফারহানা
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে যে চটুল ও অসভ্য ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে, দেশের জন্মের পর এমন মনস্তাত্ত্বিক বনভোজন কখনোই দেখেনি। এক বেসরকারি টিভি টকশোতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রুমিন বলেন, যেখানে সেনাবাহিনীর নাম আসে, সেখানে প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানকে দায়ী করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়; এটি কি কারণে হচ্ছে এবং কারা এই কাজ করছে—এগুলো দেখা দরকার। তিনি অভিযোগ করেন, যারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায় এবং অন্যকে ‘ভারতের এজেন্ট’ বলছে, আসলে বিদেশী শক্তির সেবা করে তারা। ফলে দায় চাপানোর নেশায় তারা প্রতিনিয়ত সেনাবাহিনীকে টার্গেট করছে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ১ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪’র ঘটনা চলাকালে তিনি মাঠে ছিলেন এবং সেখানকার স্লোগান ছিল—“এ সময় সেনাবাহিনীই দরকার।” তৎকালীন পরিস্থিতিতে যদি সেনাপ্রধান ক্ষমতা গ্রহণ করতেন, তখন জনগণের মধ্যে বিরাট অংশই তা মেনে নিত বলে মানুষের ধারণা ছিল। কিন্তু সেনাপ্রধান তা করেননি এবং পেশাদারিত্ব দেখিয়ে রাজনীতির সঙ্গে সেনাবাহিনীকে যুক্ত করতে না চাওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।
রুমিন আরও বলেন, এরই পরিণামে গত ১৪ মাসে সেনাপ্রধান ও সেনাবাহিনী সম্পর্কে নানা মিথ্যা অভিযোগ ও প্রোপাগান্ডা চালানো হয়েছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সেনাপ্রধানকে ব্যবহার করে দানাদার স্বার্থ হাসিল করা—তবে তা ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, সেনাপ্রধান বারবার ধৈর্য ও প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থান সফল হতো না হলে সেনাপ্রধানকে কোর্ট-মার্শালের মুখোমুখি হতে হতো এবং আরো কঠোর শাস্তির সম্ভাবনাও ছিল। সেই পরিস্থিতিতে কিছু চরিত্র কৃত্রিমভাবে জেনারেলদের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করেছিল—যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব ছিলেন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তবে রুমিন মনে করেন, বাংলাদেশ সৌভাগ্যবান যে এমন পেশাদার ও নিয়ামক ব্যাক্তিত্বের সেনাপ্রধান পেয়েছে, যিনি চাইলে মিলিটারি শাসনের পথও নিতে পারতেন কিন্তু তা করেননি।
শেষে তিনি মন্তব্য করেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা থেকে বারবার নির্বাচনের আহ্বান যতটুকু দেখা গেছে, তা স্বাভাবিক নয়—তবুও सेनাপ্রধান নিয়ম-রীতিভঙ্গ করে পেশাগত দায়িত্ব ও নীতি ধরে রাখায় দেশের জন্য তা ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে আছে।