সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডে অনিয়ম: আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ রিয়াজ ইসলাম ও শিবলী রুবাইয়াত

ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডে অনিয়ম: আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ রিয়াজ ইসলাম ও শিবলী রুবাইয়াত

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডে অনিয়ম: আজীবনের জন্য পুঁজিবাজারে নিষিদ্ধ রিয়াজ ইসলাম ও শিবলী রুবাইয়াত

ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের অর্থ ‘বিধিবহির্ভূতভাবে’ বিনিয়োগের অভিযোগে শেয়ারবাজারের সম্পদ ব্যবস্থাপক প্রতিষ্ঠান এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশ অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী ও প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামকে পুঁজিবাজারে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।


মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বিএসইসির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ডের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকেও এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশকে অপসারণ করা হয়েছে।


একই ঘটনায় বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলামকেও আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে বেক্সিমকোর বন্ড অনিয়মের অভিযোগেও তাকে নিষিদ্ধ করেছিল বিএসইসি।


সভা শেষে বিএসইসির প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই অনিয়মের ঘটনায় ছয় ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৯ কোটি ১১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানাপ্রাপ্তরা হলেন—রিয়াজ ইসলাম, রেজাউর রহমান সোহাগ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শরীফ আহসান, মদিনা আলী, সৈয়দ কামরুল হুদা, ওমর শোয়েব চৌধুরী এবং বাংলাদেশ জেনারেল ইনস্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।


এর মধ্যে বিজিআইসিকে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকা, আর বাকি ছয় ব্যক্তিকে ১ কোটি টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া রেজাউর রহমান সোহাগকে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা এবং শরীফ আহসানকে ১ লাখ টাকা অতিরিক্ত জরিমানা করা হয়েছে।


বিএসইসি জানিয়েছে, এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের হাতে থাকা ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড থেকে বন্ধ ও লোকসানি প্রতিষ্ঠান পদ্মা প্রিন্টার্স অ্যান্ড কালারসের শেয়ারে দুই দফায় প্রায় ৬৯ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়। প্রথম দফায় ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে কোম্পানিটির ৫১ শতাংশ শেয়ার কেনা হয়, পরে এর নাম বদলে রাখা হয় কোয়েস্ট বিডিসি লিমিটেড। পরবর্তীতে মূলধন বাড়ানোর নামে ছয়টি ফান্ড থেকে আবারও ৪৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়।


বিএসইসি বলছে, বন্ধ ও লোকসানি কোম্পানিতে এই বিনিয়োগের মাধ্যমে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটধারীদের অর্থের অপচয় করা হয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে ছয়টি ফান্ড থেকে বিনিয়োগ করা অর্থ ও সুদসহ ৯০ কোটি টাকা ৩০ দিনের মধ্যে ফেরত আনার নির্দেশ দিয়েছে বিএসইসি।


এলআর গ্লোবাল বাংলাদেশের অধীনে থাকা সংশ্লিষ্ট ছয়টি মিউচুয়াল ফান্ড হলো:

১. এনসিসিবিএল মিউচুয়াল ফান্ড

২. এলআর গ্লোবাল মিউচুয়াল ফান্ড ওয়ান

৩. এআইবিএল ফার্স্ট ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড

৪. এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

৫. ডিবিএইচ ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড

৬. গ্রিন ডেলটা মিউচুয়াল ফান্ড।