সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা: তিন দিনে পেঁয়াজে ১০ টাকা বেড়েছে, মাছ-সবজিতেও আগুন

নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা: তিন দিনে পেঁয়াজে ১০ টাকা বেড়েছে, মাছ-সবজিতেও আগুন

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা: তিন দিনে পেঁয়াজে ১০ টাকা বেড়েছে, মাছ-সবজিতেও আগুন

খুলনার খুচরা বাজারে আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) নতুন বাজার, রূপসা বাজার ও মিস্ত্রিপাড়া বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ টাকা।


বিক্রেতারা বলছেন, দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়া এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।


যদিও কাঁচামরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। মানভেদে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহে ছিল ২৪০ টাকা।


সবজির বাজারেও দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। মৌসুমি ফুলকপি বাজারে এলেও দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে — কেজি প্রতি ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা। বেগুনের দাম সামান্য কমে ১০০ টাকায় নেমেছে, তবে টমেটো এখনো ১৫০ টাকাতেই বিক্রি হচ্ছে। বাঁধাকপির দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছে।


নতুন বাজারের ক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রতিদিন বাজারে এলে নতুন দাম শুনতে হয়। পেঁয়াজ, টমেটো কোনোটার দামই কমছে না। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”


অন্যদিকে মিস্ত্রিপাড়া বাজারের বিক্রেতা রজব আলী শেখ বলেন, “আমরা দাম বাড়াই না, পাইকারি বাজারেই দাম বেশি আসে। শীতকালীন সবজি পুরোপুরি এলে দাম কমতে পারে।”


মাছের বাজারেও একই চিত্র। সমুদ্রে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশি ও চাষের মাছের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা। বর্তমানে ভেটকি বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় (গত সপ্তাহে ছিল ৬০০), চিংড়ি ৬০০ থেকে ১,০০০ টাকায়, রুই ৪৫০ টাকায় এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ৩০০ টাকায়।


নতুন বাজারের মাছ বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, “ইলিশ না থাকায় এখন রুই, ভেটকি আর চিংড়ির চাহিদা বেশি। পাইকারি বাজার থেকেই দাম বেশি, তাই খুচরা পর্যায়েও দাম বাড়ছে।”


ক্রেতারা বলছেন, টানা মূল্যবৃদ্ধিতে নিত্যপণ্যের বাজার এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। শীতকালীন সবজি ও সামুদ্রিক মাছের সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে এই চাপ আরও বাড়বে।