সাভারে সিটি ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষ: পাল্টাপাল্টি দুই মামলা
সাভারের সিটি ইউনিভার্সিটিতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপরদিকে, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় ও নির্যাতনের অভিযোগে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও পাল্টা মামলা করেছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাতে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাভার মডেল থানায় লিখিতভাবে এজাহার দাখিলের পর পুলিশ মামলা দুটি রেকর্ড করে। বুধবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
সিটি ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মীর আকতার হোসেন বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় (নম্বর–১০৬) ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহাদসহ অজ্ঞাতপরিচয় এক সহস্রাধিক ছাত্রকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও হামলাকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আফতাব উদ্দিন আহম্মেদ খান বাদী হয়ে দায়ের করেছেন আরেকটি মামলা (নম্বর–১০৭)। এতে অজ্ঞাতনামা ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা যৌথভাবে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়ে ১১ জনকে জিম্মি করে সারারাত আটকে রাখে এবং অস্ত্রের মুখে মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে। এ সময় শিক্ষার্থীদের মারধর, নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে মামলায় উল্লেখ আছে।
এ ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা দুই বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম জানান, “আমরা উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য নেবো এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করবো। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়া হবে।”
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যায় ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস’–এর পাশে সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী অসাবধানতাবশত থুতু ফেললে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ওই বাসায় হামলা চালায়। এর জেরে মধ্যরাতে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীরাও সিটি ইউনিভার্সিটিতে পাল্টা হামলা চালায়। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ও ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটে।
পরে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আটক শিক্ষার্থীদের ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে ড্যাফোডিল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে মিথ্যা জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে। বর্তমানে দুই বিশ্ববিদ্যালয়েই তদন্ত কার্যক্রম চলছে।