বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
বুধবার , ১২ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিনিজেদের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের সুযোগ নেবেন না, ঐক্যবদ্ধ থাকুন: তারেক রহমান

নিজেদের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের সুযোগ নেবেন না, ঐক্যবদ্ধ থাকুন: তারেক রহমান

favicon
অনলাইন সংস্করণ
নিজেদের দ্বন্দ্বে প্রতিপক্ষের সুযোগ নেবেন না, ঐক্যবদ্ধ থাকুন: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দলীয় নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে বলেছেন, “আপনাদের চারপাশে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষায় গুপ্ত স্বৈরাচার ওত পেতে আছে। তাই নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বা বিবাদ এমন পর্যায়ে নেওয়া উচিত নয়, যাতে প্রতিপক্ষ সেই সুযোগ নিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, দলের চূড়ান্তভাবে ঘোষিত একক প্রার্থীর বিজয়ে সব নেতা–কর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

রবিবার রাতে রাজধানীর গুলশানের হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রবাসে বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের ওয়েবসাইটে অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে উদ্বোধন করা হয়। লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে উদ্বোধন করেন তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, পরিচালনা করেন নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি।

অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ও মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল।

তারেক রহমান জানান, শিগগিরই পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন আসনে বিএনপির একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি নেতা–কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। মনে রাখবেন, ধানের শীষ জিতলে জিতবে দেশ ও গণতন্ত্র।”

তিনি নেতা–কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, “স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ জিয়া কিংবা গণতন্ত্রের মা খালেদা জিয়ার প্রতি অসম্মান হয়, এমন কোনো আচরণ করবেন না—এতে কোটি সমর্থক বিব্রত হন।”

জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে, আর নির্বাচন কমিশন যথাসময়ে তফসিল ঘোষণা করবে। বিএনপি ইতিমধ্যেই ৩০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রায় শেষ ধাপে রয়েছে।”

তিনি জানান, বিএনপি এমনকি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোগী অন্যান্য রাজনৈতিক দলের যোগ্য প্রার্থীকেও সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। “দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে দলের এই বাস্তব সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই,” বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “কৌশল ও অপকৌশলের পার্থক্য বুঝতে ব্যর্থ হলে শেষ পর্যন্ত কোনো অগণতান্ত্রিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণ করতে হতে পারে। মাঠে থাকা সব গণতান্ত্রিক দলকে এই বিপদের কথা স্মরণ রাখতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত ১৫ বছরে দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এখনো বিএনপির বিজয় ঠেকাতে সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও অপকৌশল চলছে। তবে জাতীয়তাবাদী শক্তিতে বিশ্বাসী জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না।”

নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “নারী ও শিশুদের জন্য নিরাপত্তাহীন সমাজ কখনোই সভ্য সমাজ হতে পারে না।” তিনি জানান, আগস্ট মাসেই দেশে ৯৩ জন নারী ধর্ষণ ও ৮৯ জন নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।

“এটা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সমাজ ও রাষ্ট্রের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোকেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভূমিকা নিতে হবে,” বলেন তিনি।

প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রসঙ্গে তিনি নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “প্রবাসীরা এবার প্রথমবার ভোট দিতে পারবে—এটি একটি বড় অর্জন। বিএনপি ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোট প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে কাজ করবে।”

শেষে তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “তাঁদের নেতৃত্বেই বিএনপি বহু প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজ জনপ্রিয়তার শীর্ষে।”

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন