বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
বৃহস্পতিবার , ১৩ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট-সমঝোতায় ব্যস্ত বিএনপি, ঢাকার আসন নিয়েই বেশি হিসাব

ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট-সমঝোতায় ব্যস্ত বিএনপি, ঢাকার আসন নিয়েই বেশি হিসাব

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জোট-সমঝোতায় ব্যস্ত বিএনপি, ঢাকার আসন নিয়েই বেশি হিসাব

আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এরই মধ্যে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে ভোটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে। বাকি ৬৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্তের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র। এসব আসনের কিছু ত্যাগী ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের দেওয়া হবে, আর বাকিগুলো জোটের মিত্র দলের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে ভাগ হবে।


বিভিন্ন সূত্র জানায়, বিএনপি সর্বোচ্চ ৪০টি আসন মিত্রদের জন্য ছেড়ে দিতে পারে। ইতোমধ্যে শরিক দলগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা ও দরকষাকষি চলছে। বিএনপি চায়, যেসব দল তাদের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল, তারা যেন নির্বাচনে সহযোগী হয়। বিশেষ করে তরুণ নেতৃত্বের নতুন রাজনৈতিক দল *জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)*কে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।


এনসিপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত না হলেও বিএনপির সূত্র বলছে, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, “জোট বা সমঝোতা আদর্শিক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত আমরা এককভাবেই এগোচ্ছি।”


এদিকে বিএনপির ঘনিষ্ঠ মিত্র এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ইতোমধ্যেই ঢাকা-১৩ আসনে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। জোট ঘোষণা হলেই প্রার্থী ঘোষণাও হবে।” একইভাবে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থও গুলশান-বনানী এলাকায় (ঢাকা-১৭ আসন) প্রচারণা চালাচ্ছেন।


বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, ঢাকার আসনগুলো নিয়ে বিশেষ হিসাব-নিকাশ চলছে। তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসন—ঢাকা-১৭ (গুলশান-বনানী), ঢাকা-১০ (ধানমন্ডি), এবং ঢাকা-১৮ (উত্তরা)—এর মধ্যে একটি ছাড় দিলে অন্য দুটি রাখার বিষয়ে তৃণমূলের চাপ রয়েছে।


দলটির সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা মামুনুল হক এবং গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুরসহ আরও কয়েকজন নেতার বিষয়ে।


সূত্র মতে, বিএনপি মিত্র রাজনৈতিক দলের ১৪ জন শীর্ষ নেতার আসনে প্রার্থী দেয়নি। এসব আসনই জোটের সহযোগীদের জন্য ছাড় দেওয়া হতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার (পিরোজপুর-১), নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না (বগুড়া-২), বাংলাদেশ এলডিপির চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম (লক্ষ্মীপুর-১), গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬), গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর (পটুয়াখালী-৩) প্রমুখ।


গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, “আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচন করব, এটি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত।” গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানান, “জোটবদ্ধভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।”


সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি আসন্ন নির্বাচনে বড় পরিসরের জোট তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের আসন সমঝোতা ও তরুণ নেতৃত্বকে কতটা জায়গা দেবে—সেই দিকেই এখন সবার নজর।