“জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ছাড়া সংকটের সমাধান নেই”:এনসিপির সামান্তা শারমিন
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বলেছেন, “জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠিত করতে হবে; অন্য কোনো বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ জারি করা জরুরি।”
গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সামান্তা শারমিন বলেন, এবারের নির্বাচনে সর্বাধিক সংখ্যক মনোনয়নপত্র বিক্রির রেকর্ড গড়বে এনসিপি। দলটি ইতোমধ্যে “ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ” শীর্ষক ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, “এনসিপির জন্ম ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। আমাদের লক্ষ্য ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থার অবসান ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কারের বাস্তবায়ন।”
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ
অন্তর্বর্তী সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন এনসিপির এই নেত্রী। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক ঘটনায় দেখা গেছে, প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর সারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তাই ভোটের সময় নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো প্রস্তুতি সরকারের নেই বলে আমরা মনে করি।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান
তিনি বলেন, “সব দলকে ঐকমত্যে আসতে হবে যে, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন আদেশই আইনি ভিত্তি দেবে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. ইউনূসকে নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে এ আদেশ জারি করতে হবে। অন্য কোনো বিকল্প আমরা দেখি না।”
মনোনয়ন ও নির্বাচনি প্রস্তুতি
সামান্তা শারমিন জানান, ওপেন নমিনেশন ফরম ঘোষণার পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। একদিনেই ৪৮ জন অনলাইনে ফরম পূরণ করেছেন এবং আরও ১০ জন সরাসরি অফিস থেকে নিয়েছেন।
নির্বাচনি ব্যয় ও তহবিল পরিকল্পনা
তিনি বলেন, “আমরা স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত নির্বাচনের উদাহরণ গড়তে চাই। নির্বাচনি ব্যয়ের জন্য ক্রাউড ফান্ডিং ও প্রার্থীভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।”
নির্বাচনি জোট বিষয়ে অবস্থান
জোট গঠনের প্রশ্নে তিনি জানান, “এনসিপি এককভাবে নির্বাচন করতে আগ্রহী। তবে পরিবর্তনকামী ও সংস্কারপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন