অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিলে করদাতাদের ব্যাপক সাড়া, এ বছর জমা পড়েছে ২০ লাখের বেশি রিটার্ন
২০২৫–২৬ কর বছরের জন্য অনলাইনে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম চালুর পর করদাতাদের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আজ শনিবার এনবিআরের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এ বছর এখন পর্যন্ত ২০ লাখেরও বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এনবিআরের বিশেষ নির্দেশনায় এ বছর ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া সব ধরনের করদাতার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে যাদের জন্য বাধ্যতামূলক নয়, তারাও ইচ্ছা করলে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে কেউ অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে না পারলে, ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্দিষ্ট যৌক্তিকতা উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করলে পেপার রিটার্ন দাখিলের সুযোগ পাবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, করদাতার অনুমোদিত প্রতিনিধিও তার পক্ষ থেকে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন। বিদেশে থাকা বাংলাদেশি করদাতারা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠালে এনবিআর তাদের OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
ই-রিটার্ন জমা দিতে কোনো ধরনের কাগজপত্র আপলোড করার প্রয়োজন নেই। করদাতারা শুধু আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি করেই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে acknowledgement slip ও আয়কর সনদ প্রিন্ট নেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
এনবিআর জানায়, ই-রিটার্ন প্রক্রিয়া সহজ করতে করদাতা, আইনজীবী, একাউন্ট্যান্টসহ সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১ নম্বরে কল সেন্টারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
দেশের সব কর অঞ্চলে ই-রিটার্ন হেল্পডেস্কও চালু রয়েছে, যেখানে সরাসরি বা ফোনের মাধ্যমে করদাতারা সেবা পাচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তির শেষে আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে ২০২৫–২৬ কর বছরের আয়কর রিটার্ন দাখিলের জন্য সব করদাতাকে অনলাইনে ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়।