বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দিগন্ত: প্রধান বিচারপতি
বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ। তিনি জানান, ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবি—দ্রুত ও আধুনিক বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি বিশেষায়িত আদালত—অবশেষে বাস্তবায়নের পথে।
শনিবার সকালে রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে হোটেলের কনফারেন্স হলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ইউএনডিপি আয়োজিত ‘অপারেশনালাইজিং কমার্শিয়াল কোর্ট’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান বিচারপতি জানান, গত দেড় বছরে সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সাংবিধানিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থায় মৌলিক রূপান্তর হয়েছে, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে বিচার বিভাগ নতুন এক প্রাতিষ্ঠানিক যুগে প্রবেশ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের গবেষক দল বাণিজ্যিক আদালতের খসড়া আইন তৈরি করে, যা পরবর্তীতে সারাদেশে রোডশো, অংশীজন পরামর্শ, ব্যবসায়িক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে সমৃদ্ধ হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনার পর খসড়া আইনটি চূড়ান্ত রূপ পায় এবং গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন লাভ করে।
খসড়া আইনের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি জানান, এতে রয়েছে—বাণিজ্যিক বিরোধের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, পর্যাপ্ত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠা, হাইকোর্টে পৃথক আপিল বেঞ্চ, বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা, সীমিত মুলতবি, সারসংক্ষেপ বিচার, মামলার স্বচ্ছ পরিসংখ্যান প্রকাশ, এবং বিচারক-আইনজীবীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের বিধান। এসব উদ্যোগ দ্রুত ও স্বচ্ছ বাণিজ্যিক বিচার নিশ্চিত করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি বলেন, আইন সফল করতে প্রয়োজন যথাযথ বাস্তবায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ, ডিজিটাল সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা। তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট দ্রুত বাণিজ্যিক বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্র্যাকটিস ডাইরেকশন জারি করতে প্রস্তুত।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ইউএনডিপির আবাসিক প্রধান স্টেফান লিলার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস, কানাডার রাষ্ট্রদূত অজিত সিং, অস্ট্রেলিয়ার ডেপুটি হাইকমিশনার ক্লিন্টন পুকি ও সুইডেন দূতাবাসের কর্মকর্তা অলি লুন্ডিন।