সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোমবার , ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › অর্থনীতি-ব্যবসা › সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটে পেঁয়াজের দাম চড়া, সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটে পেঁয়াজের দাম চড়া, সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

favicon
অনলাইন সংস্করণ
সিন্ডিকেটের কৃত্রিম সংকটে পেঁয়াজের দাম চড়া, সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দিচ্ছে সরকার

দেশের বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, অসাধু ব্যবসায়ীদের একটি সিন্ডিকেট ইচ্ছেমতো সরবরাহ আটকে রেখে দাম বাড়িয়েছে। এতে রাজধানীর খুচরা বাজারে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ টাকা বাড় হয়ে ১৫০–১৬০ টাকায় পৌঁছেছে। ভোক্তারা বলছেন, এই মূল্যবৃদ্ধি তাদের পকেটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।


বাজারের এই অস্থিরতার মধ্যে সরকার আজ থেকে সীমিত পরিসরে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দিচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিদিন ৫০টি করে আইপি ইস্যু করা হবে এবং প্রত্যেকটিতে সর্বোচ্চ ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি মিলবে।


খুচরা ও পাইকারি বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। তবে অনেক বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অভিযোগ— একটি চক্র ইচ্ছাকৃতভাবে মজুদ আটকে সংকট তৈরি করছে। তাদের উদ্দেশ্য সরকারকে ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দিতে চাপ সৃষ্টি করা। অথচ মাঠে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করেছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বাজার স্বাভাবিক হওয়ার কথা।


কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাস্তবে কোনো ঘাটতি নেই। দেশের বিভিন্ন গুদামে এক লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ মজুদ আছে। উৎপাদনও এ বছর ভালো হয়েছে। গত বছর যেখানে চার লাখ মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ আমদানি হয়েছিল, এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় আমদানি কমে ১২ হাজার ৯০০ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।


পেঁয়াজ আমদানিকারকদের দাবি, আমদানি অনুমতিতে অনীহা দেখানোর কারণেই ভোক্তাদের ১৬০ টাকা দামে পেঁয়াজ কিনতে হচ্ছে। অনুমতি দেওয়া হলে দাম ৫০–৬০ টাকায় নেমে আসত বলেও মত দেন তারা। শ্যামবাজার পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল মাজেদ অভিযোগ করেন, আমদানি অনুমতি না দেওয়ায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। তার দাবি, এখনই সিদ্ধান্ত না নিলে দাম ২০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে।


এদিকে রাজধানীর মহাখালী, রামপুরা, বাড্ডা ও জোয়ারসাহারা বাজারে খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগেও দেশি পেঁয়াজ ১১০–১২০ টাকায় বিক্রি করেছেন। পাইকারিতে দাম বাড়ায় এখন খুচরায় ১৫০–১৬০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। পাইকারদের মতে, পুরনো পেঁয়াজের সংকট থাকায় দাম বাড়লেও নতুন পেঁয়াজ বাজারে এলেই দাম আবার কমে ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে।


কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে এ বছর প্রায় চার হাজার ‘এয়ারফ্লো মেশিন’ বিতরণ করা হয়েছে, যা পেঁয়াজের পচন কমাতে সাহায্য করছে। ফলে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন এবং বেশি মুড়িকাটা পেঁয়াজ উৎপাদন করতে পেরেছেন। এরই মধ্যে এসব নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসা শুরু করেছে।