সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের ৫ দিনের রিমান্ড
রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এদিন আনিস আলমগীরকে আদালতে হাজির করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার পুলিশ পরিদর্শক মো. মুনিরুজ্জামান তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, এক মাস আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে আনিস আলমগীর আওয়ামী লীগের অপ্রকাশিত নেতাদের নিয়ে মন্তব্য করেন, যা সরকারবিরোধী উসকানি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে মেহের আফরোজ শাওন, ইমতুরা তিশ ইমতিয়াজসহ কয়েকজন তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি ও অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কটাক্ষমূলক ও উসকানিমূলক পোস্ট দেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এসব বক্তব্য ও পোস্টের মাধ্যমে দেশের জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, আনিস আলমগীরকে ডিবি লালবাগ বিভাগ ধানমণ্ডি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সময় স্বল্পতার কারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। তার সহযোগী পলাতক আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য রিমান্ড প্রয়োজন। এছাড়া, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানান। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে রোববার জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের সংগঠক আরিয়ান আহমেদ বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আনিস আলমগীরসহ ইলা ফ্লোরা কিসপট্রা ওরফে মারিয়া কিসপট্রা, মেহের আফরোজ শাওন ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজকে আসামি করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, তাদের অনলাইন পোস্ট ও বক্তব্যের মাধ্যমে নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মীরা উসকানি পেয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল ও রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো ধ্বংসের ষড়যন্ত্রে জড়াচ্ছে।