খালেদা জিয়ার ত্যাগ ও সাহস জাতি আজীবন স্মরণ করবে: আমীর খসরু
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের জন্য যে ত্যাগ ও সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, তা জাতি চিরদিন মনে রাখবে। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে খালেদা জিয়া দেশের মাটি ও মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং জনগণের সুখ-দুঃখের অংশ হয়ে উঠেছেন।
বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জিয়া পরিষদের আয়োজনে খালেদা জিয়ার স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমীর খসরু বলেন, স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খালেদা জিয়াই একমাত্র নেতা, যিনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো আপস করেননি। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দৃঢ়তা ও নেতৃত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে অনন্য।
খালেদা জিয়ার জানাজায় বিপুল মানুষের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণের হৃদয়ে তার অবস্থান কতটা গভীর। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছিল না, বরং মানুষের ভালোবাসা থেকেই তারা সেখানে উপস্থিত হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার সামাজিক উন্নয়নমূলক অবদানের কথা স্মরণ করে আমীর খসরু বলেন, একসময় যখন মেয়েদের স্কুলে যাওয়া ছিল বিরল ঘটনা, তখন খালেদা জিয়া খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করেন। পাশাপাশি দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া শিশুদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে উপবৃত্তি ও বৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে গণতন্ত্রের যে মশাল খালেদা জিয়া হাতে নিয়েছিলেন, তা দীর্ঘদিন বহন করে তিনি এখন তারেক রহমানের হাতে তুলে দিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত রূপরেখা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়া হবে। তিনি বিএনপির ঘোষিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’, ‘ফার্মার্স কার্ড’, এক কোটি কর্মসংস্থানসহ সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এসব কর্মসূচির লক্ষ্য হলো উন্নয়নের সুফল দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে কেউই উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না থাকে।