মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › আইন ও আদালত › জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জুলাই–আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধ: শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

চব্বিশের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে ৪৫৩ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ ঐতিহাসিক রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।


তবে একটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডও প্রদান করেন। সেই সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে প্রসিকিউশন।


এ মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সহায়তা করায় তাকে রাজসাক্ষী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


মামলায় প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ একাধিক প্রসিকিউটর শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন।


এই ঐতিহাসিক মামলায় গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের বাবা সহ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা সাক্ষ্য দেন। পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য প্রদান করেন। মোট ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে তৎকালীন সরকার, দলীয় ক্যাডার এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করে—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা দায়ের হয়। বর্তমানে দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এসব মামলার বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।