টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত, অপেক্ষা আরও দুই দিনের
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করার অনেক আগেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এমনকি ভারতের ভিসা ফরমেও সম্ভাব্য বিশ্বকাপগামী দলের সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় এসব ফরম আর জমা দেওয়া হয়নি, এমনকি সরকারি আদেশ (জিও) নেওয়ার প্রয়োজনও পড়েনি। যদিও প্রস্তুতির অন্যান্য আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া থেমে নেই।
এরই মধ্যে জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা নিজ নিজ জার্সি ও ব্লেজারের মাপ দিয়ে রেখেছেন এবং সেগুলো তৈরির কাজও চলছে। তবু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিশ্বকাপ দলের এক সদস্য গতকাল বিসিবির কয়েকজন কর্মকর্তার কাছে জানতে চান— আদৌ বাংলাদেশ বিশ্বকাপে যাবে কি না। উত্তরে তিনি শুনেছেন, “আরো দুটো দিন অপেক্ষা করো।”
কিন্তু এই দুই দিনের অপেক্ষার পর কী সিদ্ধান্ত আসবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউই। গতকাল বিপিএল ম্যাচ চলাকালীন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্ট বক্সে উপস্থিত বিসিবির এক দায়িত্বশীল পরিচালকও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনাগ্রহী ছিলেন। তার আচরণেও অপেক্ষার চাপ স্পষ্ট ছিল।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে শনিবার ঢাকায় আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের সঙ্গে বিসিবি কর্মকর্তাদের বৈঠক ফলপ্রসূ না হওয়ায়। বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আইসিসির ইভেন্টস অ্যান্ড করপোরেট কমিউনিকেশনস বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা। বৈঠকে নতুন কোনো পরিকল্পনা বা বিকল্প ভেন্যুর প্রস্তাব দেওয়া হয়নি বলে বৈঠকে উপস্থিত একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। আইসিসি প্রতিনিধিরা মূলত ভারতে গেলে বাংলাদেশ দলকে কী ধরনের নিরাপত্তা দেওয়া হবে, সেই প্রটোকল উপস্থাপনেই আগ্রহ দেখিয়েছেন।
অন্যদিকে বিসিবি তাদের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছে। তারা গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো ভারত থেকে সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজন এবং প্রয়োজনে গ্রুপ পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে। বৈঠকে আইসিসি পক্ষ থেকে ভারত গেলে বাংলাদেশের সমর্থকদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিসিবির অবস্থান বদলায়নি।
এদিকে ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ জানিয়েছে, ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড আইসিসির কাছ থেকে নিশ্চয়তা পেয়েছে যে তাদের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কা থেকে অন্য কোথাও সরানো হবে না। বাংলাদেশের ‘বি’ গ্রুপে আয়ারল্যান্ডকে আনা এবং বাংলাদেশকে অন্য গ্রুপে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা চলছিল, এই খবরে তা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের জিও নিউজ উর্দুর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তানের সহায়তা চেয়েছে এবং পাকিস্তান বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন দিচ্ছে। এমনকি বাংলাদেশের দাবি না মানা হলে পাকিস্তান নিজেদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি সূত্র জানায়, দুই দেশের সরকারের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়নি। ব্যক্তি পর্যায়ে কোনো আলোচনা হয়ে থাকলেও তা সম্পূর্ণ অনানুষ্ঠানিক বলেই উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভাগ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। এখন অপেক্ষা মাত্র আরও দুই দিনের— হয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যাবে বাংলাদেশ, না হয় এই অপেক্ষার অবসান ঘটবে ভিন্ন সিদ্ধান্তে।