মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আবুল কালাম আজাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। বুধবার সকালে তিনি ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
আবুল কালাম আজাদকে ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়।
পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের ৮ জুলাই তিনি সাজা স্থগিতের আবেদন করেন। পরে একই বছরের ২২ অক্টোবর সরকার তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করে। শর্ত অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে আপিল করার আগে তাকে ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। সেই নির্দেশনা অনুসরণ করেই তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধকালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ১৪ জনকে হত্যা, তিন নারীকে ধর্ষণ, ৯ জনকে অপহরণ, ১০ জনকে আটক রাখা, পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ১৫টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। আটটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মধ্যে সাতটিতে তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। তিনটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড এবং চারটিতে কারাদণ্ড দেওয়ার সুযোগ থাকলেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় অন্যান্য অভিযোগে পৃথক দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়নি। একটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তা খারিজ করা হয়।
এই রায়ের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধের প্রথম কোনো মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় সে সময় তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যমতে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আগেই তিনি ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।