মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › আইন ও আদালত › ট্রান্সকমের শেয়ার আত্মসাত মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সিইও সিমিন রহমান ও তার মা

ট্রান্সকমের শেয়ার আত্মসাত মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সিইও সিমিন রহমান ও তার মা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ট্রান্সকমের শেয়ার আত্মসাত মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন সিইও সিমিন রহমান ও তার মা

ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে ট্রান্সকম গ্রুপের ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় আত্মসমর্পণের পর জামিন পেয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সিইও সিমিন রহমান ও তার মা মিসেস শাহনাজ রহমান।


বুধবার (২০ জানুয়ারি) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত শুনানি শেষে ৫০০ টাকা মুচলেকায় তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।


এর আগে সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এই মামলায় ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নেন। আদালতে উপস্থিত না থাকায় সিমিন রহমান, তার মা শাহনাজ রহমান এবং ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক সামসুজ্জামান পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করা হয়।


আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য তিন আসামি— ট্রান্সকম গ্রুপের পরিচালক মো. কামরুল হাসান, মো. মোসাদ্দেক এবং আবু ইউসুফ মো. সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের পক্ষে স্থায়ী জামিনের আবেদন করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।


পরবর্তীতে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে সিমিন রহমান ও তার মা কালো বোরকা পরে ও মুখ ঢেকে আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। তাদের পক্ষে আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত জামিন মঞ্জুর করেন।


মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শাযরেহ হক বাদী হয়ে গুলশান থানায় এ মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে গত ১১ জানুয়ারি পিবিআই পরিদর্শক সৈয়দ সাজেদুর রহমান আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন, যেখানে সিমিন রহমানসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়।


অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের ১৩ জুন ট্রান্সকম লিমিটেডের একটি বোর্ড মিটিং দেখানো হলেও বাস্তবে সে ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি। ওই কথিত সভার মাধ্যমে প্রয়াত লতিফুর রহমানের ২৩ হাজার ৬০০টি শেয়ার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত দেখানো হয়। এর মধ্যে সিমিন রহমান নিজের নামে ১৪ হাজার ১৬০টি শেয়ার নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


তদন্তে দেখা যায়, বোর্ড মিটিংয়ের কোনো বৈধ নোটিশ, ই-মেইল বা নথিপত্র পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি আরজেএসসিতে (যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর) শেয়ার হস্তান্তরের কাগজপত্র দাখিলের ক্ষেত্রেও অনিয়ম ও জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।


এছাড়া অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, শেয়ার হস্তান্তরের সময় দাতা ও গ্রহীতা কেউই আরজেএসসিতে উপস্থিত ছিলেন না, যা ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের ৩৮ ধারার লঙ্ঘন। ভুয়া স্বাক্ষর ও জাল নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ব্যবহার করে পারিবারিক ডিড অব সেটেলমেন্ট ও এফিডেভিট তৈরি করে অধিকাংশ শেয়ার নিজের নামে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়।


চার্জশিটে বলা হয়, ব্যবহৃত দুটি স্ট্যাম্পের সত্যতা যাচাইয়ে আদালতের নির্দেশে ঢাকার জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদনে জানা গেছে— সংশ্লিষ্ট স্ট্যাম্প ভেন্ডরের লাইসেন্স বাতিল হয়েছিল এবং স্ট্যাম্পগুলো ২০২৩ সালে অবৈধভাবে সংগ্রহ করে ২০২০ সালের তারিখে ব্যবহার করা হয়।