শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
শুক্রবার , ১৪ আগস্ট ২০২৬
হোমরাজনীতিজামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে ‘না’ তারেক রহমানের, এককভাবে জয়ের আশা বিএনপির

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে ‘না’ তারেক রহমানের, এককভাবে জয়ের আশা বিএনপির

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকারে ‘না’ তারেক রহমানের, এককভাবে জয়ের আশা বিএনপির

জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রিত্বের অন্যতম প্রধান দাবিদার ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন নির্বাচনে এককভাবেই সরকার গঠনের মতো ফলাফল অর্জনে দলটি আত্মবিশ্বাসী।


শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টারার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করা যুক্তিযুক্ত নয়। তার ভাষায়, “যদি প্রতিপক্ষদের সঙ্গে সরকার গঠন করি, তাহলে কার্যকর বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আশা প্রকাশ করেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে থাকলে শক্তিশালী ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে।


আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামিকে। দলটি অতীতে নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবার সক্রিয় হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট একসঙ্গে সরকার পরিচালনা করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে দেশকে স্থিতিশীল করতে ঐক্য সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত, তবে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করেছে।


২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন।


বিএনপির নেতারা আশা করছেন, ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পাবে দলটি। বিএনপি নিজস্ব প্রতীকে ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, আর বাকি আসনগুলোতে জোটের শরিকরা লড়ছেন। যদিও নির্দিষ্ট আসনসংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন পাওয়ার বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী।


বিভিন্ন জনমত জরিপে বিএনপির পক্ষে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে। এ জোটে তরুণ নেতৃত্বের জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)সহ শেখ হাসিনাবিরোধী আন্দোলন থেকে উঠে আসা বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে।


পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকবে না; বরং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও জনগণের স্বার্থে যে দেশ উপযোগী প্রস্তাব দেবে, তাদের সঙ্গেই সম্পর্ক জোরদার করা হবে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ও চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।


শেখ হাসিনার পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যতে দেশে ফিরে রাজনীতিতে যুক্ত হতে পারবেন কি না—এ প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হলে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।