শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করছে ভারত
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার অনুরোধ ভারতের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এ তথ্য জানান।
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, **‘আমাদের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি দেখছি।’**
এর আগে সোমবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি উত্থাপন করেন।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই সন্দেহভাজনকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধের বিষয়েও ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। জয়সওয়াল বিষয়টিকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।
শরিফ ওসমান হাদি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। তার হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেনকে চলতি বছরের মার্চে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্কফোর্স গ্রেপ্তার করে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকে আলোচিত বিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে জয়সওয়াল বলেন, দুই পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছে।
ঢাকায় ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) প্রধান পরাগ জৈন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বৈঠকের খবর নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। এ বিষয়ে কোনো তথ্য তার কাছে নেই বলে জানান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।
আসন্ন সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জয়সওয়াল জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, বঙ্গোপসাগরীয় বহুমুখী কারিগরি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উদ্যোগ (বিমসটেক)-এর বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।