বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ছয় দফা দাবি
বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে ছয় দফা দাবিসহ একটি স্মারকলিপি প্রদান করেছে। সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম ও মহাসচিব মো. মোজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন।
দাবিগুলো:
১. পদোন্নতি: সচিবালয় নিয়োগ বিধিমালা অনুযায়ী ৪০০ প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকে সহকারী সচিব (নন-ক্যাডার) পদে পদোন্নতি দেওয়া।
২. পদনাম পরিবর্তন: প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ‘উপসহকারী সচিব’, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীদের ‘অতিরিক্ত উপসহকারী সচিব’ এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ‘সাচিবিক সহকারী’ পদবী প্রস্তাব।
৩. নিয়োগবিধি কমিটি বাতিল: নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য গঠিত অভিন্ন নিয়োগবিধি কমিটি বাতিলের দাবি।
৪. রেশন ও ভাতা: সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য রেশন সুবিধা, সচিবালয় ভাতা এবং ৩০ শতাংশ মহার্ঘ্য ভাতা চালুর দাবি।
এ সময় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ‘বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ’ নামে একটি ভুয়া সংগঠনের বিবৃতির তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং এটিকে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেতারা ‘বৈষম্য বিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম’-এর চলমান আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন এবং জানান, এবিএম আব্দুস সাত্তারের নেতৃত্বে পরিচালিত কর্মসূচি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের কার্যক্রম স্থগিতের প্রজ্ঞাপন’কে একটি যথাযথ সিদ্ধান্ত বলে অভিহিত করেন এবং প্রশাসনের ভেতরে অবস্থানরত ‘ফ্যাসিস্ট দোসরদের’ অপসারণের দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, কিছু কুচক্রী মহল সচিবালয় ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে। তারা এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সুবিধাভোগী’ আখ্যায়িত করে তাদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। প্রতিনিধিদল জানায়, সময়মতো তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দাবি বাস্তবায়নে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে আগামী সপ্তাহে সচিবালয় চত্বরে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।