মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মঙ্গলবার , ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › জাতীয় › সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর? জুলাই থেকে মিলতে পারে ২০% মহার্ঘ ভাতা

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর? জুলাই থেকে মিলতে পারে ২০% মহার্ঘ ভাতা

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুখবর? জুলাই থেকে মিলতে পারে ২০% মহার্ঘ ভাতা


চার মাসের বিরতির পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত আলোচনা আবারও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। এবার গ্রেডভিত্তিক ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে আগামী ২০ মে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি সাত সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি তাদের সুপারিশে গ্রেড অনুযায়ী ১০ থেকে ২০ শতাংশ হারে মহার্ঘ ভাতা প্রদানের প্রস্তাব করে। মূলত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকেই এই ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার প্রেক্ষিতে ওই সময় সরকার পিছু হটে। ২৮ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, “মহার্ঘ ভাতার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রস্তাব এলে তখন দেখা হবে।”
নতুন করে আলোচনায় কেন?
সম্প্রতি আবারও এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের আয়োজন হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৫ সালে সর্বশেষ বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার পর আর নতুন কাঠামো আসেনি, অথচ এই সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সেই কারণে সরকার মহার্ঘ ভাতা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বাধীন জনপ্রশাসনবিষয়ক কমিটির আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। সিদ্ধান্ত হলে আগামী জুলাই থেকে ভাতা কার্যকর এবং নতুন অর্থবছরের বাজেটে এটি ঘোষণা করা হতে পারে।
খরচ ও বিতর্ক
অর্থ বিভাগের খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সাড়ে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এই ভাতার আওতায় আসবেন। এতে বার্ষিক অতিরিক্ত খরচ হবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ব্যয় কমাতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ এবং প্রথম থেকে দশম গ্রেডে ১০-১৫ শতাংশ হারে ভাতার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এর সঙ্গে বার্ষিক ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বাদ দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে আলোচনায়।
সবকিছু ঠিক থাকলে, এই মহার্ঘ ভাতা সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বড় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।