বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › ধ্বংসের জন্য কোস্টারিকা থেকে ৪৫ টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে নিল মার্কিন সামরিক বিমান

ধ্বংসের জন্য কোস্টারিকা থেকে ৪৫ টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে নিল মার্কিন সামরিক বিমান

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ধ্বংসের জন্য কোস্টারিকা থেকে ৪৫ টন কোকেন যুক্তরাষ্ট্রে নিল মার্কিন সামরিক বিমান

কোস্টারিকায় বিভিন্ন অভিযানে জব্দ করা প্রায় ৪৫ টন কোকেন ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার-৩ উড়োজাহাজ। দুই দেশের মাদকবিরোধী সহযোগিতার আওতায় বিপুল পরিমাণ এই মাদক যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছে।


কোস্টারিকার বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চালানটির প্রকৃত ওজন ৪৪ হাজার ৬৯৭ দশমিক ১৩ কেজি। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, এসব কোকেন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ইন্ডিয়ানাপোলিসে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ইনসিনারেশনের মাধ্যমে মাদকগুলো ধ্বংস করার কথা রয়েছে।


কোকেনের চালানটি কোস্টারিকার আলাজুয়েলায় অবস্থিত দেশটির এয়ার সার্ভেইলেন্স সার্ভিসের ‘বেস-২’ থেকে নেওয়া হয়। ঘাঁটিটি রাজধানী সান হোসের কাছে হুয়ান সান্তামারিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত।


কোস্টারিকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে এসব কোকেন জব্দ করা হয়। অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনসহ (ডিইএ) আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অংশীদার সহযোগিতা করেছে।


কোস্টারিকার বিচার বিভাগের ভাষ্য, এত বিপুল পরিমাণ জব্দ করা মাদক ধ্বংস করার মতো পর্যাপ্ত শিল্প সক্ষমতা দেশটিতে নেই। একই সঙ্গে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ কোকেন পুড়িয়ে ধ্বংস করলে পরিবেশ ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এসব কারণেই মাদকগুলো যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।


চালান পরিবহনে নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। কোস্টারিকার কর্মকর্তারা কোকেনের প্যাকেটগুলো সিল করে সামরিক পরিবহনের উপযোগী প্যালেটে সাজান। পরে সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে সেগুলো বিমানবন্দরের রানওয়েতে নেওয়া হয়।


মাদকের ‘চেইন অব কাস্টডি’ বা হেফাজতের ধারাবাহিকতা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে কোস্টারিকার একজন বিচারকও চালানটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে যান। মার্কিন ডিইএ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশটির বিমানবাহিনীর লোডমাস্টাররা উড়োজাহাজের কার্গো ডেকে মাদক পরিবহনের ব্যবস্থাপনায় অংশ নেন।


প্রায় এক লাখ পাউন্ড ওজনের অবৈধ মাদক একসঙ্গে পরিবহনে সি-১৭-এর মতো কৌশলগত পরিবহন বিমান ব্যবহারের বিষয়টিও এ ঘটনায় সামনে এসেছে। সাধারণত আঞ্চলিক মাদকবিরোধী অভিযানে সি-১৩০ হারকিউলিসের মতো পরিবহন বিমান ব্যবহার করা হলেও বিপুল পরিমাণ মাদক একসঙ্গে সরিয়ে নিতে সি-১৭ তুলনামূলকভাবে বেশি উপযোগী।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগেও বিপুল পরিমাণ জব্দ করা মাদক ধ্বংসের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পরিবহনে সি-১৭ ব্যবহার করা হয়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে রাডার সরঞ্জাম, বিশেষায়িত ইউনিট ও মোবাইল অপারেশন সেন্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম পরিবহনেও মার্কিন বিমানবাহিনীর ভারী পরিবহন উড়োজাহাজ ব্যবহারের নজির রয়েছে।