বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বুধবার , ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
হোম › বিশ্ব › নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হলেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি

নির্বাচনের পর মরক্কোর প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা এল মানসুরি। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ তাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন।


গত ২৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট নির্বাচনে এল মানসুরির দল লিবারেল-সেন্ট্রিস্ট অথেনটিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (পিএএম) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর তাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। নতুন সরকারে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


মরক্কো একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র। দেশটির পররাষ্ট্রনীতি, প্রতিরক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে রাজার ব্যাপক ক্ষমতা রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকে সরকারপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন রাজা।


২০০৮ সালে রাজার এক উপদেষ্টার উদ্যোগে পিএএম গঠিত হয়। সামাজিক আধুনিকায়ন ও তুলনামূলকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানের পক্ষে থাকা দলটি ইসলামপন্থি জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির (পিজেডি) রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।


নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল ছিল পিএএম। এবার সর্বোচ্চ আসন পেয়ে দলটি শীর্ষে উঠে এসেছে। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান এবং সাবেক বাজেটমন্ত্রী ফৌজি লেকজা পিএএমে যোগ দেওয়ায় দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।


পেশায় আইনজীবী এল মানসুরি বিদায়ী সরকারের আবাসনমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তিনি মারাকেশ শহরের মেয়রের দায়িত্বও পালন করেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম কাজ হবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে জোট সরকার গঠন করা। এরপর মন্ত্রিসভার সদস্যদের তালিকা রাজার অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন তিনি।


নতুন সরকারকে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের কাজ এগিয়ে নিতে হবে। পর্তুগাল ও স্পেনের সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে মরক্কো। এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে দেশটি প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা অসন্তোষ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক নীতিতে গুরুত্ব দেওয়াও নতুন সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠতে পারে। গত বছর জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ এবং সম্প্রতি সেউতা সীমান্তে বিপুলসংখ্যক মানুষের পারাপারের চেষ্টার ঘটনায় তরুণদের ক্ষোভ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়টি আলোচনায় আসে।


নির্বাচনী প্রচারের সময় পিএএম জানিয়েছিল, বিদায়ী জোটের আরেক শরিক ন্যাশনাল র‍্যালি অব ইন্ডিপেন্ডেন্টসের (আরএনআই) সঙ্গে তারা নতুন করে জোটে থাকতে চায় না। খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দুই দলের মধ্যে পরস্পরকে দায়ী করার ঘটনাও ঘটেছিল।


তবে এল মানসুরি পরে জানিয়েছেন, সরকার গঠনের আলোচনায় কোনো ‘লাল দাগ’ থাকবে না। তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের অধ্যায় পেছনে ফেলে এগিয়ে গেছি।’


এদিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিজেডির নেতা আবদেলিলাহ বেনকিরানে জানিয়েছেন, তার দল বিরোধী দলে থাকবে।


নির্বাচনে পিএএম ৯৭টি আসন পেয়েছে। বিদায়ী সরকারের শরিক আরএনআই পেয়েছে ৬৬টি এবং রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদী দল ইস্তিকলাল পেয়েছে ৬৫টি আসন। পিজেডি পেয়েছে ৫৪টি আসন। তিনটি বামপন্থি দলও আসন পেয়েছে, তবে তাদের আসনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।


নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিও আলোচনায় এসেছে। এবার ভোটার উপস্থিতি কমে প্রায় ৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যেখানে পাঁচ বছর আগে এই হার ছিল প্রায় ৫০ শতাংশ। ওই নির্বাচনে এক দশক ক্ষমতায় থাকার পর বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়েছিল মধ্যপন্থি ইসলামপন্থি পিজেডি।


মরক্কোর রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ এর আগে নারী উপদেষ্টা নিয়োগের পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক পদেও নারীদের দায়িত্ব দিয়েছেন। বিদায়ী সরকারে চারজন নারী মন্ত্রী ছিলেন। তবে এল মানসুরির নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পেলেন একজন নারী।