জ্বালানি সংকট কমাতে ১০ কোটি ব্যারেল তেল-ডিজেল ছাড়বে জি৭
বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭। জোটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী চার মাসে আন্তর্জাতিক বাজার ও বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে সরবরাহ করা হবে।
সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের মজুত থেকে ডিজেল বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তা না হলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিও দিয়েছিলেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে জি৭ নেতাদের বিশেষ বৈঠকে ইউরোপীয় দেশগুলো জ্বালানি মজুত ছাড়তে সম্মত হয়। একই সঙ্গে কোনো দেশ জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় রপ্তানি বন্ধের আশঙ্কাও কমে আসে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানিয়েছেন, সমন্বিত এই উদ্যোগের আওতায় প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল সরবরাহ করা হবে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ কমে যাওয়ার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো বিষয়গুলোকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায় এবং বিভিন্ন দেশে জ্বালানির খুচরা দামও বেড়ে যায়।
কৃষিকাজ ও পণ্য পরিবহনে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামেও পড়েছে।
জি৭-এর সমন্বিত উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।