এআই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি উত্তর কোরিয়ার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সহায়তায় মাঝারি পাল্লার একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন ও ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা কিম ইয়ো জং এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানায়, উত্তর কোরিয়া তাদের পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়।
এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, পূর্ব উপকূলের সাগরের দিকে নিক্ষেপ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ব্যবহার করে একটি কৌশলগত অস্ত্রের মহড়া পরিচালনা করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন নিজে এই মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন বলেও তিনি দাবি করেন। বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সামরিক ইউনিট ক্ষেপণাস্ত্রটির পরীক্ষা চালায়।
দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্রটির উড্ডয়ন দূরত্বসংক্রান্ত তথ্যের সমালোচনা করে কিম ইয়ো জং দাবি করেন, এসব তথ্য দুই দেশের ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও অনুসরণ করার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। ক্ষেপণাস্ত্রটির গতি সম্পর্কেও দুই দেশকে বাস্তবতা স্বীকার করার আহ্বান জানান তিনি। তবে এর প্রকৃত গতিবেগ সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে ক্ষেপণাস্ত্রটি কম উচ্চতায় উড্ডয়নের সময়ও নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। এ সক্ষমতা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে প্রতিহত করা কঠিন করে তুলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
উত্তর কোরিয়া চলতি বছরে এ পর্যন্ত ১০ বারের বেশি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটিকে নতুন ধরনের অস্ত্রব্যবস্থার পরীক্ষা বলে দাবি করেছে দেশটি।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর কোরিয়া। এসব মহড়ার পরও দেশটিকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে দেখা গেছে। পিয়ংইয়ংয়ের এমন কর্মকাণ্ডে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।