পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের মাঠে কলাগাছ, ফটকে বাঁশের বেড়া
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের অভিযোগ তুলে একটি স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ে নতুন করে তালা লাগানো এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসে এসব করেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ নাম নির্ধারণ করা হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সংশ্লিষ্ট রেজল্যুশনে এই নামটি আজাদ আলী নিজেই প্রস্তাব করেছিলেন।
২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। পর্যায়ক্রমে উচ্চতর শ্রেণিতে পাঠদানের অনুমোদন নেওয়ার কথা রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, শনিবার সকাল ১১টার দিকে আজাদ আলী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে আসেন। এরপর শিক্ষকদের কার্যালয়ের আগের তালার ওপর নতুন করে আরেকটি তালা লাগানো হয়। পরে প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয় এবং বিদ্যালয়ের মাঠে সারি করে কলাগাছের চারা লাগানো হয়।
আজাদ আলীর দাবি, টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে তিনি জমি দিয়েছিলেন। সেখানে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর দেওয়া শর্ত অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি হয়নি এবং পুত্রবধূকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
তবে প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজার দাবি, আজাদ আলী শুরুতে নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে বিদ্যালয়ের স্থাপনা নির্মাণের পর জমি রেজিস্ট্রির সময় তিনি ছেলে ও পুত্রবধূর চাকরির দাবি করেন। তাঁর পুত্রবধূকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানান প্রধান শিক্ষক।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে আজাদ আলীর ছেলে ও তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীর চাকরির বিষয়েও ব্যবস্থাপনা কমিটিতে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এ বিষয়ে রেজল্যুশনও রয়েছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। তাঁর অভিযোগ, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য তিনি জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠানটি করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।