রাষ্ট্রবিরোধী পোস্টের অভিযোগে ভারতে দমন-পীড়ন, নজরদারিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্য
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতি দেখানোর অভিযোগে অন্তত ৮১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এপ্রিলের শেষ দিকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
রোববার (১ জুন) এএফপির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আসামের মুখ্যমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেছেন, “পাকিস্তানের প্রতি সহানুভূতি দেখানো এসব ৮১ জন রাষ্ট্রবিরোধী এখন কারাগারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারির মাধ্যমে এই পোস্টগুলো শনাক্ত করে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
আসাম পুলিশের বরাতে এএফপি আরও জানায়, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ইনস্টাগ্রামে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার ছবি পোস্ট করেছিলেন। অন্যদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই দমন-পীড়নের পেছনে রয়েছে ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরে পর্যটকদের ওপর চালানো প্রাণঘাতী হামলা। এই হামলাকে ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বেসামরিক হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নয়াদিল্লি এই হামলার জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করলেও এখন পর্যন্ত কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। পাকিস্তান এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এই ঘটনার পর দুই দেশের মধ্যে চারদিন ধরে সীমান্তে সামরিক সংঘর্ষ চলে, যা ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধের পর সবচেয়ে উত্তপ্ত অবস্থা সৃষ্টি করে। অবশেষে ১০ মে দুই দেশ অস্ত্রবিরতিতে সম্মত হয়।
🔸বাংলাদেশ সীমান্ত ঘিরে উত্তেজনা ও অভিবাসন ইস্যু
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, রাজ্য সরকার 'অবৈধ অভিবাসন' রোধেও কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েছে। মুসলিম-অধিকাংশ বাংলাদেশ ও আসামের দীর্ঘ সীমান্ত ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসন ইস্যুতে বিতর্ক রয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক মাসে আসাম সরকার ডজনখানেক কথিত বাংলাদেশিকে আটক করে সীমান্তে নিয়ে গিয়ে 'নো-ম্যানস ল্যান্ডে' ঠেলে দেয়। শুধু ২৭ থেকে ২৯ মে’র মধ্যেই অন্তত ৪৯ জনকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আসাম সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
বাংলাদেশ, যার তিন দিকেই ভারতের সীমান্ত, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের প্রেক্ষাপটে নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কে টানাপড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একইসঙ্গে বেইজিং ও ইসলামাবাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার—এমনটাও উল্লেখ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।