শিক্ষার কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আসছে ২০২৭-এ, কিন্তু প্রস্তুতি কতটা?
সরকার ২০২৭ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই লক্ষ্যে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) বিভিন্ন দেশের কারিকুলাম পর্যালোচনার কাজ শুরু করেছে। তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোনো দেশের কারিকুলাম হুবহু অনুকরণ না করে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপযোগী শিক্ষাক্রম তৈরি করা হবে।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষার পদ্ধতি ও শিক্ষকের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত না করলে সব উদ্যোগ ব্যর্থ হতে পারে।
এর আগে পরিকল্পনা ছিল ২০২৪ সালেই চতুর্থ, পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর মাধ্যমে মাধ্যমিক পর্যায়ে পুরো শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হবে। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সরকার পতনের পর মাধ্যমিক স্তরের নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল করা হয় এবং ২০১২ সালের পুরোনো কারিকুলাম পুনরায় চালু করা হয়। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে নতুন শিক্ষাক্রম বহাল রয়েছে।
২০২৬ সাল পর্যন্ত নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পুরোনো শিক্ষাক্রমেই পড়বে। ২০২৭ সালে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নতুন কারিকুলাম চালু হবে এবং পরবর্তীতে প্রতি বছর একেকটি শ্রেণিতে তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক রবিউল কবীর চৌধুরী জানান, নতুন কারিকুলামের অভ্যন্তরীণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতেই মূল্যায়ন ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, কেবল ভালো ফল নয়, শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারে, সেই বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আর এ জন্য মানসম্মত শিক্ষক প্রশিক্ষণ অপরিহার্য।
অভিভাবক শীলা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “প্রতিবারই বাচ্চাদের নিয়ে পরীক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়, আর তার ভুক্তভোগী হয় আমার সন্তানেরা।” অন্য এক অভিভাবক সিফাত বলেন, “বিদেশি পদ্ধতির অনুকরণ নয়, বরং বাংলাদেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতা অনুযায়ী শিক্ষাক্রম হতে হবে।”