ইউরোপীয় ফুটবলে ইতি টানলেন নিঃশব্দ নায়ক দি মারিয়া
সব ভালো কিছুর শেষ আছে—আর সেই শেষটাই এখন বাস্তব হয়ে ধরা দিল আনহেল দি মারিয়ার জীবনে। ইউরোপে ১৮ বছরের বিস্ময়কর ক্যারিয়ারের অবসান ঘটল পরশু রাতে, ক্লাব বিশ্বকাপে বেনফিকার হয়ে শেষ ম্যাচ খেলে।
সেই শেষ ম্যাচেই প্রতিপক্ষ ছিল শক্তিশালী ইংলিশ ক্লাব চেলসি। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে সমতায় ফেরানো গোলটি করেছিলেন মারিয়াই। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেনফিকা হেরে যায় ৪-১ গোলে। ক্লান্ত শরীর নিয়েও শেষ পর্যন্ত লড়াই করেছিলেন তিনি, কিন্তু দলের ভাগ্য আর বদলাতে পারেননি।
ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ক্লাব বিশ্বকাপ শেষেই বেনফিকাকে বিদায় জানাবেন। গন্তব্য ঠিক করা—শৈশবের ক্লাব রোসারিও সেন্ট্রাল। তাই বেনফিকার হয়ে এই প্রতিযোগিতার প্রতিটি ম্যাচই ছিল ভক্তদের কাছে আবেগঘন।
এই টুর্নামেন্টে ৪টি গোল করে যৌথভাবে শীর্ষ গোলদাতা হয়েছেন তিনি। বয়স ৩৭ হলেও মাঠে তার নিবেদন ছিল প্রশংসনীয়।
দি মারিয়ার ইউরোপ যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে রোসারিও সেন্ট্রাল থেকে বেনফিকায় পা রাখার মাধ্যমে। তিন মৌসুমে পাঁচটি শিরোপা এনে দেন পর্তুগিজ ক্লাবটিকে। এরপর নাম লেখান রিয়াল মাদ্রিদে, যেখানে কাটান চার বছর। রিয়ালের হয়ে জেতেন ছয়টি শিরোপা, যার মধ্যে রয়েছে এক লা লিগা ও এক চ্যাম্পিয়নস লিগ। বিশেষ করে ২০১৪ সালের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্সে নজর কাড়েন।
পরে রেকর্ড ৫৯ মিলিয়ন পাউন্ডে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। তবে এক মৌসুমেই বিদায় নেন এবং পাড়ি জমান প্যারিসে, পিএসজিতে। সেখানে সাত মৌসুমে জেতেন ১৯টি ট্রফি—৫টি লিগ শিরোপাসহ।
পরে খেলেন জুভেন্টাসে এক মৌসুম, এরপর ২০২৩ সালে ফিরে আসেন নিজের শুরুর ক্লাব বেনফিকায়। যেন শেষটা শুরুতেই মিলিয়ে দেওয়ার মতো।
সেই শেষটাই হলো চেলসির বিপক্ষে। শেষ ম্যাচ, শেষ গোল, আর বিদায়বেলায় কান্নাভেজা চোখ। দর্শকেরা দেখেছে এক নিঃশব্দ নায়কের আবেগময় প্রস্থান।
জাতীয় দলের হয়েও তার অবদান অনস্বীকার্য—কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা, বিশ্বকাপ ফাইনাল—সবখানেই করেছেন গুরুত্বপূর্ণ গোল। ২০১৪ সালে হয়েছেন আর্জেন্টিনার বর্ষসেরা ফুটবলার।
জাতীয় দলকে আগেই বিদায় জানিয়েছেন। এবার ইউরোপকেও জানালেন শেষ বিদায়। এখন বাকি কেবল রোসারিও সেন্ট্রালের হয়ে নিজের গল্পের শেষ অধ্যায় লেখা। সেটাও নিশ্চয়ই হবে তার মতো করেই—নীরব, আত্মবিশ্বাসী, বিনয়ী।