মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
মঙ্গলবার , ১৮ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়চাল-সবজির দাম বেড়ে চাপে ভোক্তা, সিন্ডিকেটের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

চাল-সবজির দাম বেড়ে চাপে ভোক্তা, সিন্ডিকেটের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
চাল-সবজির দাম বেড়ে চাপে ভোক্তা, সিন্ডিকেটের অভিযোগ ব্যবসায়ীদের
ছবি - কালের কণ্ঠ

ঈদের পর থেকে চালসহ একাধিক নিত্যপণ্যের দাম হঠাৎ করে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে মিনিকেট ও মোটা চালের দাম এক লাফে কেজিতে ৮–১০ টাকা বেড়ে গেছে। অথচ বর্তমানে চালের মৌসুম চলছে, ফলে এই বৃদ্ধিকে অযৌক্তিক ও সিন্ডিকেটের ফল বলছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা।


গত এক মাসে খুচরা পর্যায়ে চাল, আলু, দেশি পেঁয়াজ, টমেটো, করলা, বেগুন ও সোনালি মুরগিসহ সাতটি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ১৩৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। অথচ মানুষের আয় বাড়েনি। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে ভোক্তারা অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।


চালকল মালিকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মিনিকেট ধানের সংকট এবং উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে দাম বাড়াতে হয়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি মূলত অসাধু মিলারদের মজুদ ও কারসাজির ফল। তাঁরা আরও অভিযোগ করেন, সরকারের মজুদনীতি উপেক্ষা করে করপোরেট ও বড় মিলাররা ধান মজুদ করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।


কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান তালুকদার বলেন, “এই ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার কোনও যুক্তি নেই। মিলাররা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন।” তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় মিনিকেট চাল কেজিতে ১৪ টাকা, মোটা চাল ৮ টাকা এবং নাজিরশাইল চাল ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। তাঁর মতে, বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে মিল পর্যায়ে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে।


চালের বাজারে অস্থিরতা প্রতিফলিত হচ্ছে টিসিবি ও বাজারের তথ্যেও। জুন মাসের শেষের দিকের তথ্য অনুযায়ী, চিকন চালের দাম কেজিতে ৮২ থেকে ৯০ টাকা, মোটা চালের দাম ৬০ থেকে ৬২ টাকা হয়েছে।


ঈদের পর আলুর দাম ২০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩০ টাকা কেজি, দেশি পেঁয়াজ বেড়ে ৫৫–৬০ টাকা, টমেটো ১০০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ও বেগুনের দাম বেড়ে কেজিতে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। সোনালি মুরগির দামও বেড়ে এখন কেজিতে ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা।


বেসরকারি চাকরিজীবী মো. সাদিকুল ইসলাম বলেন, “মিনিকেট চালের এক বস্তা ঈদের আগে ১,৮৭৫ টাকা ছিল, এখন তা ২,১২৫ টাকা। ব্যয় বাড়ছে, আয় বাড়ছে না—পরিবার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।”


কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “চালের বাজারে স্বচ্ছতা ফেরাতে সরকারকে বাজার তদারকি ও মজুদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। খোলা বাজারে বিক্রির কার্যক্রম বাড়াতে হবে। তবেই নিয়ন্ত্রণে আসবে চালের বাজার।”


বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, বাজারে এভাবে মূল্যবৃদ্ধি চলতে থাকলে পুনরায় মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে, যা স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলবে।