শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমবিশ্বইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের

favicon
অনলাইন সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইন্দোনেশিয়া একটি নতুন বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময়ে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা দেন।


ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, নতুন চুক্তির আওতায় ইন্দোনেশিয়া আমেরিকান পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে। পরবর্তীতে ট্রুথ সোশ্যালে আরেকটি পোস্টে তিনি দাবি করেন, চুক্তিটি এখন "চূড়ান্ত"।


এদিকে মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার পক্ষ থেকে এই চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।


ট্রাম্প আরও বলেন, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনবে। এর মধ্যে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের কৃষিপণ্য ও ৫০টি বোয়িং জেট বিমান রয়েছে, যার বেশিরভাগই ৭৭৭ মডেলের।


পিটসবার্গে একটি সম্মেলনে যাওয়ার আগে হোয়াইট হাউস ছাড়ার সময় তিনি বলেন, ইন্দোনেশিয়া উচ্চমানের তামার জন্য বিখ্যাত। যুক্তরাষ্ট্র সেই তামা আমদানি করবে। ফলে আগস্ট ১ তারিখ থেকে ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী তামার ওপর ৫০% শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা থাকলেও, ইন্দোনেশিয়ার জন্য সেটি প্রযোজ্য নাও হতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ২০ মিলিয়ন ডলারের তামা রফতানি করেছিল। যা তুলনামূলকভাবে চিলি (৬ বিলিয়ন ডলার) ও কানাডার (৪ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় অনেক কম।


একই বিষয়ে সিএনবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া আমাদের পণ্যের ওপর কোনো শুল্ক দেবে না। কিন্তু তারা আমাদের দেশে পণ্য রফতানির সময় শুল্ক দেবে। এটা আমাদের পক্ষে অসমতা কাজে লাগানোর সুযোগ।’


ট্রাম্প জানান, ভারতও বর্তমানে একই ধরনের একটি বাণিজ্য চুক্তির জন্য কাজ করছে।


এর আগে, এপ্রিল মাসে ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপর ৩২ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। পরে তা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। গত তিন মাসে যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ছিল, তাদের ক্ষেত্রে অন্তত ১০% শুল্ক চালু রয়েছে। তবে এই শুল্ক ব্যবস্থা আগস্ট ১-এ শেষ হবে।


ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ‘সবার জন্য চমৎকার একটি চুক্তি হয়েছে। আমি ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। বিস্তারিত শীঘ্রই আসবে।’


এটি ট্রাম্পের তিন মাসে চতুর্থ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা। তবে আগের ঘোষণা করা অনেক চুক্তিই এখনও কার্যকর হয়নি।


এই মাসের শুরুতে তিনি ভিয়েতনামের সঙ্গে আরেকটি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছিলেন, তবে সেটি নিয়েও এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য নীতি ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। অনেক কোম্পানি আশঙ্কা করছে যে, যেকোনো সময় হঠাৎ করে শুল্কের হার বাড়িয়ে দেয়া হতে পারে।


ট্রাম্পের পরামর্শ, কোম্পানিগুলো উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনুক। তবে বাস্তবে এটি অনেক ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ। শ্রমিক সংকটের পাশাপাশি কারখানা স্থাপনেও সময় ও অর্থ লাগবে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে, যা শেষমেশ আমেরিকান ভোক্তার ওপর প্রভাব ফেলবে।


যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ২৩তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে, যার মধ্যে পোশাক ও জুতা ছিল শীর্ষে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ১০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। যার মধ্যে তেলবীজ ও শস্য, পেট্রোলিয়াম এবং গ্যাস ছিল শীর্ষে।


সূত্র: সিএনএন নিউজ