আফিয়া সিদ্দিকিকে ‘জাতির কন্যা’ বললেন ইসহাক দার, মুক্তিতে মরিয়া প্রচেষ্টার দাবি
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার নিউইয়র্কে প্রবাসী পাকিস্তানিদের এক অনুষ্ঠানে আফিয়া সিদ্দিকিকে ‘জাতির কন্যা’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তার মুক্তির জন্য সরকার ‘নিঃস্বার্থ ও মরিয়া প্রচেষ্টা’ চালিয়েছে এবং এখনও বিষয়টি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রোববার (২৭ জুলাই) সামা টিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ইসহাক দার বলেন, “আমরা তার মুক্তির জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেছি এবং প্রেসিডেন্ট বাইডেনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছি।” তিনি আফিয়ার কারাবন্দিত্বকে মানবিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ওয়াশিংটনের কাছে বারবার এই বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
‘দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করেছি’
সরকারের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে দার বলেন, শাহবাজ শরিফ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়েছে। তার দাবি, “যদি পিটিআই সরকার আরও ছয় মাস থাকত, দেশ দেউলিয়া হয়ে যেত।”
তিনি আরও জানান, পিটিআই সরকারকে সরাতে আনা অনাস্থা প্রস্তাব ছিল একটি অপরিহার্য সিদ্ধান্ত।
‘অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে’
উপপ্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, “বর্তমানে পাকিস্তান অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়েছে, মূল্যস্ফীতি কমেছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ফিরেছে।” আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর স্বীকৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, জি-২০ গোষ্ঠীতে পাকিস্তানকে অন্তর্ভুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।
প্রবাসীরা ‘জাতির পুঁজি’
প্রবাসীদের ‘জাতির পুঁজি’ আখ্যা দিয়ে দার বলেন, সরকার তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে পদক্ষেপ নিয়েছে।
কূটনৈতিক পরিসরে সক্রিয় পাকিস্তান
তিনি বলেন, “আগে কেউ ডাকত না, এখন আমরা বিশ্বজুড়ে সক্রিয়।” মার্কিন সিনেটর মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠককে তিনি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন। দার বলেন, “আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক চাই, তবে তা যেন চীনের সঙ্গে কৌশলগত বন্ধুত্বে আঘাত না করে।”
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আফগানিস্তানকে হুঁশিয়ারি
আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে দার জানান, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আফগান নেতাদের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—“তাদের ভূখণ্ড থেকে পাকিস্তানবিরোধী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না।”
ভারতের সঙ্গে শান্তির প্রত্যাশা, প্রতিক্রিয়ায় প্রস্তুত পাকিস্তান
ভারতের প্রতি সদ্ভাব প্রকাশ করে দার বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাস করি, তবে উসকানি পেলে জবাব দিতে প্রস্তুত।” কাশ্মীরের পেহেলগামে ঘটে যাওয়া ঘটনার তদন্তে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান তিনি।
জাতিসংঘে নেতৃত্বে প্রত্যাবর্তনের দাবি
শেষে ইসহাক দার জানান, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পেয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের গ্রহণযোগ্যতা ও আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।