সাংবাদিক তুহিন হত্যা: দ্রুত তদন্ত ও বিচারের দাবি সিপিজের
গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ–এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সুরক্ষা সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের চন্দনা চৌরাস্তা এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড ভিডিও করার সময় তুহিনকে একদল হামলাকারী তাড়া করে কুপিয়ে হত্যা করে।
সিপিজের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক বেহ লিহ ই বলেন,
“আমরা সাংবাদিক তুহিন হত্যার নিন্দা জানাই। তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় হামলার শিকার হয়েছেন। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই জড়িত সবাইকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।”
স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় জানা যায়, তুহিন যে ঘটনার ভিডিও করছিলেন, তাতে কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি এক নারীকে ঘিরে ঝগড়া শেষে এক ব্যক্তিকে মারধরের চেষ্টা করছিল। পুলিশ ধারণা করছে, এই ভিডিও ধারণের কারণেই তুহিনকে টার্গেট করা হয়। হামলাকারীরা তাকে ভিডিও মুছে ফেলতে বললেও তিনি অস্বীকৃতি জানান এবং নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলাকারীরা তাকে তাড়া করে নিকটবর্তী এক চায়ের দোকানে ঢুকে কুপিয়ে হত্যা করে।
ঘটনার পর পুলিশ পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে পুলিশের মুখপাত্র এনামুল হক সাগর সিপিজের ইমেইল অনুরোধে কোনো সাড়া দেননি।
সিপিজে জানিয়েছে, গত এক বছরে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, হুমকি ও গ্রেপ্তারের ঘটনা বেড়েছে। ১৯৯২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেশে ২৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।