শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ২২ আগস্ট ২০২৬
হোমজাতীয়মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটির উদ্যোগ, আসছে নীতিমালা

মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটির উদ্যোগ, আসছে নীতিমালা

favicon
অনলাইন সংস্করণ
মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি পিতৃত্বকালীন ছুটির উদ্যোগ, আসছে নীতিমালা

মাতৃত্বকালীন ছুটির পাশাপাশি এবার দেশে চালু হতে যাচ্ছে পিতৃত্বকালীন ছুটি। তবে এর জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মানতে হবে। যেমন—

১. শিশুকে সময় দেওয়া,

২. শিশুর যত্নে সমান অংশগ্রহণ,

৩. প্রসূতির সেবা নিশ্চিত করা।


সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ উপলক্ষে এক কর্মশালায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, “অনেকেই পিতৃত্বকালীন ছুটির দাবি তুলেছেন। তবে শর্তসাপেক্ষ হলে এ ছুটি দেওয়া যেতে পারে। একজন পিতা কতক্ষণ বাচ্চার যত্ন নিয়েছেন বা মায়ের সেবা করেছেন—তা লিখিতভাবে দিলে আমি রাজি।”


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষার সচিব ডা. সারোয়ার বারী জানান, কেবিনেটে অন্তত ৪ সপ্তাহের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।


মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার কমছে


বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস কে রায় বলেন, দেশে গত পাঁচ বছরে শিশুকে মাতৃদুগ্ধ খাওয়ানোর হার কমেছে।


২০১৭-১৮ সালে প্রথম ৬ মাস শুধু মায়ের দুধ খাওয়ানোর হার ছিল ৬৫ শতাংশ,


২০২২ সালে তা নেমে এসেছে ৫৮ শতাংশে।


তিনি জানান, কর্মজীবী মায়েদের পর্যাপ্ত ছুটি না পাওয়া, সচেতনতা কার্যক্রমের অভাব এবং আইন বাস্তবায়নে দুর্বলতার কারণে এ হার কমছে। এর ফলে শিশুমৃত্যু, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে।


ফর্মুলা দুধের খরচ ও প্রভাব


অধ্যাপক রায় জানান, প্রতি শিশুর জন্য বার্ষিক গুঁড়োদুধের খরচ প্রায় ৭২ হাজার টাকা। জাতীয়ভাবে বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার ফর্মুলা দুধ আমদানি করতে হচ্ছে। বর্তমানে ৫৫ শতাংশ শিশু ৬ মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ফর্মুলা দুধ খায়।


এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের প্রতিবেদনে দেখা যায়, বাংলাদেশের ৫৭ শতাংশ স্বাস্থ্য পেশাজীবী আইন লঙ্ঘন করে অপ্রয়োজনীয়ভাবে মায়েদের ফর্মুলা দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেন।


কর্মশালার আয়োজন


কর্মশালার আয়োজন করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ ব্রেস্টফিডিং ফাউন্ডেশন (বিবিএফ)। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—

“মাতৃদুগ্ধপানকে অগ্রাধিকার দিন, টেকসই সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলুন।”


অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফী আহমদ বক্তব্য রাখেন।