বিমানের ১০ চাকা গায়েব: বিক্রি হয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইনসে
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০টি চাকা গায়েব হওয়ার ঘটনায় নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই চাকা চুরি করে একটি চক্র তা বেসরকারি এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করেছে। বিষয়টি সামনে আসার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো কেপিআইভুক্ত এলাকায় নিরাপত্তার ভঙ্গুর চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে।
বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) এ বি এম রওশন কবীর জানান, অকেজো ও নিলামে ওঠানোর জন্য রাখা টায়ার থেকে ১০টি চাকা এক এয়ারলাইনসের কাছে বিক্রি করেছেন বিমানের দুই সদস্য। ইতোমধ্যে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে পুরো চক্র চিহ্নিত হবে বলেও তিনি জানান।
বিমান চলাচল বিশ্লেষক কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, “বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এত বড় পরিমাণ যন্ত্রাংশ স্থানান্তর হয়ে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামোর সুযোগ নিয়ে দুর্নীতিবাজরা নিয়মিত এসব অনিয়ম করছে।” তিনি আরও বলেন, কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে এই প্রবণতা বন্ধ হবে না।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৬ আগস্ট, যখন ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরের হ্যাঙ্গার কমপ্লেক্স সংলগ্ন অকশন শেড থেকে ১০টি ‘আনসার্ভিসেবল টায়ার’ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ১৮ আগস্ট বিমানবন্দর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন বিমানের সহকারী ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা) মোশারেফ হোসেন।
যদিও বিমানবন্দর থানা বলছে, এটি সরাসরি চুরি নয়, বরং একে অপরের মধ্যে চাকাগুলো ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে—অকেজো চাকা তাদের কোনো কাজে লাগে না, বরং এসব টায়ার তারা নিয়মিত ফেলে দেয়।
তবে বিমানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একেকটি উড়োজাহাজের চাকার দাম ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে। সেই হিসাবে ১০টি চাকাই কোটি টাকার সম্পদ। প্রশ্ন উঠেছে—এত মূল্যবান সম্পদ নিয়ম ভঙ্গ করে কিভাবে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেল?
এ ঘটনায় বিমান কর্তৃপক্ষ চার সদস্যের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তারা শুধু টায়ার হারানোর ঘটনাই নয়, গত ১ জুলাই থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত ঘটে যাওয়া সব কারিগরি সমস্যাও খতিয়ে দেখবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একের পর এক এ ধরনের অনিয়ম রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমানের প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।