চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, মাত্র ৬ বছরে ৫৪৮ অপরাধে জড়িত
চট্টগ্রাম নগরের হালিশহরে কিশোর গ্যাংয়ের সংঘর্ষে নিহত হন কলেজছাত্র ওয়াহিদুল হক ওরফে সাব্বির (১৮)। গত ১৬ মে নয়াবাজার এলাকায় চারটি অটোরিকশা নিয়ে আসে ‘পাইথন’ গ্যাংয়ের ২২ জন সদস্য। এসময় গ্যাংয়ের নেতা পরিচিত মো. আতাউল (২২) ওয়াহিদুলকে ছুরিকাঘাত করেন। মারাত্মক আহত অবস্থায় ছয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান তিনি।
নিহত ওয়াহিদুল মুরাদপুরের বাসিন্দা এবং শ্যামলী আইডিয়াল টেকনিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশ জানায়, অন্য এক কিশোরকে মারধরের প্রতিশোধ নিতে ‘পাইথন’ গ্রুপ তাকে টার্গেট করে। তবে ওয়াহিদুল নিজেও ‘বিংগু গ্রুপ’ নামে আরেকটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য ছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর ওয়াহিদুলের বাবা মো. এসহাক বাদী হয়ে হালিশহর থানায় মামলা করেন। পুলিশ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে মূল আসামি আতাউলকে বৃহস্পতিবার রাতে র্যাব–পুলিশের যৌথ অভিযানে ধরা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে আতাউল স্বীকার করেন, “বেশি সময় লাগেনি, ৮-১০ সেকেন্ডেই কাজ শেষ করেছি।”
ওয়াহিদুলের বাবা অভিযোগ করেন, “জুমার নামাজ শেষে এক বন্ধু ডেকে নিয়ে যায় নয়াবাজার এলাকায়। সেখানেই ছুরিকাঘাতে ফেলে দেওয়া হয়।” তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে কিশোর গ্যাং কার্যক্রম ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গত বছরের মার্চে নগর পুলিশের জরিপে উঠে আসে, শহরে প্রায় ২০০ গ্যাং সক্রিয় রয়েছে, যাদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৪০০। গত ছয় বছরে এসব গ্যাং ৫৪৮ অপরাধে জড়িত ছিল। এদের পেছনে অন্তত ৬৪ জন প্রভাবশালী ‘বড় ভাইয়ের’ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চট্টগ্রামের স্কুলে অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের ৫৪ শতাংশ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। মাদক সেবন ও বিক্রি, ছিনতাই, চুরি, সাইবার অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং পর্নোগ্রাফি—এসব কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ছে, যা নগরের আইন-শৃঙ্খলা ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।