শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমবিনোদনধুয়া গানের ঐতিহ্যে নতুন প্রাণ দিলেন ইমন চৌধুরী, কোক স্টুডিওতে ‘বাজি’

ধুয়া গানের ঐতিহ্যে নতুন প্রাণ দিলেন ইমন চৌধুরী, কোক স্টুডিওতে ‘বাজি’

favicon
অনলাইন সংস্করণ
ধুয়া গানের ঐতিহ্যে নতুন প্রাণ দিলেন ইমন চৌধুরী, কোক স্টুডিওতে ‘বাজি’
‘তোমরা যে সম্মান দিলা, আজীবন মনে রাখব’ ‘বাজি’র দৃশ্যে টাঙ্গাইলের কুমাতগাতা ধুয়া গানের দলের সদস্যরা। ছবি : র এক্সপোজার

আসমানে তোর ছায়ারে কন্যা, জমিনে তোর বাড়ি…”—অচেনা শব্দ, অচেনা সুর। অথচ শুনলেই মনে হয় পরিচিত। কারণ এটি ঐতিহ্যবাহী ধুয়া গানের ঢঙে নির্মিত। দলবদ্ধভাবে গাওয়া ধুয়া গানে থাকে প্রশ্নোত্তর, উপদেশ কিংবা দেহতত্ত্বের ছোঁয়া। একসময় গ্রামীণ জনপদে জনপ্রিয় হলেও কালের বিবর্তনে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছিল এ ধারা। সেই ভুলে যাওয়া ঐতিহ্যকে নতুন প্রাণ দিলেন সংগীত পরিচালক ইমন চৌধুরী, তাঁর সৃষ্ট গান ‘বাজি’-তে।


ইমনের এই কাজের পেছনে রয়েছে দুই বছরের পরিকল্পনা, গবেষণা আর স্বপ্ন। তিনি চেয়েছিলেন এমন এক গান বানাতে, যেখানে বাংলাদেশের নানান সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটবে।


২০২৩ সালের জানুয়ারিতে কোক স্টুডিও বাংলায় আসা ‘কথা কইয়ো না’ গান দিয়েই শুরু হয় তাঁর যাত্রা। গানটির অংশ নিয়েছিলেন মৈমনসিংহ গীতিকা থেকে। সেটি সাজিয়েছিলেন আধুনিক সংগীতায়োজনে। ইমনের ভাষায়, “‘কথা কইয়ো না’ করার সময় আমি লোকসংগীত নিয়ে ব্যাপক গবেষণা করেছি। সেখান থেকেই ‘বাজি’র অনুপ্রেরণা।”


‘কথা কইয়ো না’র জবাব হিসেবেই জন্ম নেয় ‘বাজি’। এ সময় ইমনের হাতে আসে জালাল উদ্দিন খাঁর বই। সেখানে পাওয়া যায় ধুয়া রীতির গান ‘আসমানে তোর ছায়ারে কন্যা’, যা তিনি তুলে আনেন নতুন সুরের খেয়ায়। এর সঙ্গে যুক্ত করেন খাঁর আরেকটি গানের কয়েকটি লাইনও।


ইমন প্রথমে ধুয়া গান সম্পর্কে জানেন তাঁর বাবার কাছ থেকে। বাবার পাঠানো ভিডিওতে টাঙ্গাইলের কুমাতগাতা ধুয়া দলের গান শুনে মুগ্ধ হন তিনি। দলটির শিল্পীরা কেউ রিকশা চালক, কেউ ইটভাটার শ্রমিক, অবসরে মেতে থাকেন ধুয়া গানে। তাঁদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন ইমন। প্রথমে তাঁরা রাজি হননি, পরে বোঝানোর পর ঢাকায় আসেন। ইমন বলেন, “দুই দিন শুধু তাঁদের সঙ্গে আড্ডা দিয়েছি, যাতে স্বাভাবিক হতে পারেন। এরপর রেকর্ডিং শুরু হয়। কাজ শেষে তাঁরা আবেগে কেঁদে বলেছিলেন, ‘তোমরা যে সম্মান দিলে, আজীবন মনে রাখব।’”


লোকঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার স্বপ্নের কথাও জানালেন ইমন। তাঁর মতে, “আমাদের কালচার সংরক্ষণ না করলে এগুলো হারিয়ে যাবে। কোক স্টুডিও আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম। এখানে যদি পাহাড়, নদী, সমতল, সমুদ্র সব জায়গার সংস্কৃতি তুলে ধরা যায়, তবে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।”


ইমনের আশা, এই প্রচেষ্টা ধুয়া গানের মতো প্রায় হারিয়ে যাওয়া ধারাকে আবারও নতুন করে চিনিয়ে দেবে বিশ্বকে।