ফটিকছড়িতে ধুরুং নদীর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ২০০ বছরের পুরনো কবরস্থান
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নে ধুরুং নদীর ভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে প্রায় ২০০ বছরের পুরনো একটি কবরস্থান। এবারের বর্ষায় টানা বৃষ্টি আর নদী থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের কারণে এ ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অভিযোগ রয়েছে, ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিন-রাত অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদীর পাড়ে ভাঙন দেখা দিয়ে বসতভিটা ও কবরস্থান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, কাঞ্চননগর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কাঞ্চননগর গ্রামের আবদুল হাকিম কেরানীবাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশ ধুরুং নদীতে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় আবুল হাসান রুবেল জানান, বছর দুয়েক আগেও এ কবরস্থানে শতাধিক কবর ছিল। গ্রামবাসী প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এখানে জিয়ারত করতেন। কিন্তু নদী থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলনের কারণে ভয়াবহ ভাঙনে বহু কবর এখন নদীতে মিশে গেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মনা জানান, কিছুদিন আগেও তাঁর মায়ের কবরটি দেখা যেত। কিন্তু নদীর ভাঙনে এখন আর কোনো চিহ্ন নেই।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ইদ্রিস মনা জানান, কিছুদিন আগেও তাঁর মায়ের কবরটি দেখা যেত। কিন্তু নদীর ভাঙনে এখন আর কোনো চিহ্ন নেই।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী একটি মহল অবৈধভাবে বালু তুলছে। এতে ভাঙনের মাত্রা দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-প্রকৌশলী সোহাগ তালুকদার বলেন, ধুরুং নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন শেষে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাঞ্চননগর ইউপির প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম জানান, ড্রেজার মেশিন বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কবরস্থানটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।