শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
শনিবার , ১৫ আগস্ট ২০২৬
হোমখেলাব্যালন ডি’অর দেম্বেলের হাতে, ইনজুরিতে শুয়ে নেইমার!

ব্যালন ডি’অর দেম্বেলের হাতে, ইনজুরিতে শুয়ে নেইমার!

favicon
ভোরের আলো ডেস্ক:
ব্যালন ডি’অর দেম্বেলের হাতে, ইনজুরিতে শুয়ে নেইমার!

২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর উঠেছে ফ্রান্সের তারকা ফুটবলার উসমান দেম্বেলের হাতে।

কিন্তু তার সাবেক সতীর্থ নেইমার সেই সময় শুয়ে ছিলেন হাসপাতালের বিছানায়— বছরের তৃতীয় ইনজুরির চিকিৎসা নিচ্ছেন।


তবুও মাঠের বাইরে থেকেও নেইমার আলোচনায়। বিশ্রামে থাকা অবস্থায় অনলাইন পোকার টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে রানার্সআপ হয়েছেন তিনি, জিতেছেন প্রায় ৭৩ হাজার ৮০০ পাউন্ড।

তবে এই জয়ও তার জন্য কেবল ক্ষণিকের সান্ত্বনা, কারণ যে ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন তিনি বহু বছর ধরে দেখেছেন, সেটি এবার জিতেছেন তার একসময়ের সহখেলোয়াড় দেম্বেলে।


ইউরোপ ছেড়ে সৌদি ক্লাব আল হিলাল-এ যোগ দিয়ে ব্যর্থ অধ্যায় শেষে নেইমার ফিরেছিলেন নিজের শৈশবের ক্লাব সান্তোসে। উদ্দেশ্য ছিল ছন্দে ফেরা, হারানো আগ্রহ ফিরে পাওয়া।

কিন্তু ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। ইনজুরির থাবায় জর্জরিত নেইমার সান্তোসের হয়ে মৌসুমের অর্ধেকেরও বেশি ম্যাচে অনুপস্থিত ছিলেন। যখন খেলেছেন, তখনও আগের মতো ঝলক দেখা যায়নি।


সাও পাওলো স্টেট চ্যাম্পিয়নশিপে নিচের সারির দলগুলোর বিপক্ষে কয়েকটি গোল ও অ্যাসিস্ট ছাড়া নেইমারের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার নিচে।

সান্তোস এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে টিকে থাকার লড়াইয়ে, আর নেইমার সেখানে যেন অতীতের ছায়া মাত্র। এতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তার ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা।


ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণা করেছেন— তাতে নেই নেইমারের নাম।

২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটাই ছিল তার শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতি।


আনচেলত্তি বলেন, “তার লক্ষ্য হওয়া উচিত আগামী জুনে বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা। মার্চ বা অক্টোবরের দলে থাকা বড় বিষয় নয়।”

কিন্তু নেইমারের দাবি, তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে “টেকনিক্যাল কারণে”, ফিটনেসের জন্য নয়— যা আরও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


ব্রাজিলের কিংবদন্তি অধিনায়ক কাফু এ বিষয়ে বলেন, “যদি নেইমারের মতো একজন খেলোয়াড় টেকনিক্যাল কারণে বাদ পড়ে, তাহলে বোঝাই যাচ্ছে কিছু একটা ঠিক নেই।”


একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, “১৫ বছর ধরে নেইমারই ছিল ব্রাজিলের ভরসা। কিন্তু এখন তিনি তিন ম্যাচ টানা খেলতেও হিমশিম খান।”


গবেষণা সংস্থা ডাটা ফোলহার জরিপ অনুযায়ী, ৪৮ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান চান নেইমার আবার জাতীয় দলে ফিরুক, যদিও ৪১ শতাংশ এর বিপক্ষে।


সান্তোসে ফিরে আসার পর মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে আচরণগত কারণেই তিনি বেশি আলোচিত। দর্শকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, হারের পর কান্না, সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিরক্তি— সব মিলিয়ে নেইমারের চারপাশে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তার মেঘ।


তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার সিনিয়র আরও বিতর্ক উসকে দিয়ে বলেন, “সান্তোসে ফেরা ছিল মাত্র পাঁচ মাসের পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা।”

এতে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা প্রশ্ন তুলেছেন, নেইমারের মনোযোগ আসলেই ফুটবলে আছে তো?


তবে সবাই হতাশ নন। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদো নাজারিও আশাবাদী,

“যারা বলে নেইমার নিজের যত্ন নিচ্ছেন না, তারা জানে না ইনজুরি থেকে ফেরা কতটা কঠিন। আমি নিজেও জানি, ও সঠিক পথে আছে।”


ব্যালন ডি’অরের আলোয় যখন উসমান দেম্বেলে উজ্জ্বল, তখন নেইমারের জীবন যেন দাঁড়িয়ে আছে এক সন্ধিক্ষণে—

মাঠের রাজপুত্র থেকে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাওয়া এক প্রতিভার নীরব গল্প।